পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२8रे রবীন্দ্র-রচনাবলী একাদশ পরিচ্ছেদ পরদিন ভূপতি আবার অসময়ে শয়নঘরে আসিয়া চারুকে ডাকাইয়া আনাইল । কহিল, "চারু, অমলের বেশ একটি ভালো বিবাহের প্রস্তাব এসেছে।” চারু অন্যমনস্ক ছিল । কহিল, “ভালো কী এসেছে।” ভূপতি । বিয়ের সম্বন্ধ । চারু । কেন, আমাকে কি পছন্দ হল না । ভূপতি উচ্চৈঃস্বরে হাসিয়া উঠিল । কহিল, “তোমাকে পছন্দ হল কি না সে কথা এখনো অমলকে জিজ্ঞাসা করা হয় নি। যদি বা হয়ে থাকে আমার তো একটা ছোটোথাটো দাবি আছে, সে আমি ফস করে ছাড়ছি নে ৷” চারু । আঃ, কী বকছ তার ঠিক নেই। তুমি যে বললে, তোমার বিয়ের সম্বন্ধ এসেছে। চারুর মুখ লাল হইয়া উঠিল। ভূপতি। তা হলে কি ছুটে তোমাকে খবর দিতে আসতুম ? বকশিশ পাবার তো আশা ছিল না । চারু । অমলের সম্বন্ধ এসেছে ? বেশ তো । তা হলে আর দেরি কেন । ভূপতি। বর্ধমানের উকিল রঘুনাথবাবু তার মেয়ের সঙ্গে বিবাহ দিয়ে অমলকে বিলেত পাঠাতে চান । চারু বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “বিলেত ?” ভূপতি । হা, বিলেত । চারু । অমল বিলেত যাবে ? বেশ মজা তো । বেশ হয়েছে, ভালোই হয়েছে । ত৷ তুমি তাকে একবার বলে দেখে । ভূপতি। আমি বলবার আগে তুমি তাকে একবার ডেকে বুঝিয়ে বললে ভালো হয় না ? চারু । আমি তো তিন হাজার বার বলেছি । সে আমার কথা রাখে না । অামি তাকে বলতে পারব না । ভূপতি । তোমার কি মনে হয়, সে করবে না ? চারু । আরো তো অনেকবার চেষ্টা দেখা গেছে, কোনোমতে তে রাজি হয় নি । ভূপতি। কিন্তু এবারকার এ প্রস্তাবটা তার পক্ষে ছাড়া উচিত হবে না। আমার অনেক দেন হয়ে গেছে, অমলকে আমি তো আর সেরকম করে আশ্রয় দিতে পারব না ।