পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী SW2 পথিক দেখেছি আমি পুরাণে-কীর্তিত কত দেশ কীৰ্তিনিঃস্ব আজি ; দেখেছি অবমানিত ভগ্নশেষ দপোন্ধত প্রতাপের ; অন্তহিত বিজয়নিশান বজ্রাঘাতে স্তন্ধ যেন অট্টহাসি ; বিরাট সম্মান সাষ্টাঙ্গে সে ধুলায় প্রণত, যে ধুলার পরে মেলে সন্ধ্যাবেল ভিক্ষু জীর্ণ কথা, যে ধুলায় চিহ্ন ফেলে শ্রাস্ত পদ পথিকের, পুন: সেই চিহ্ন লোপ করে অসংখ্যের নিত্য পদপাতে। দেখিলাম বালুস্তরে প্রচ্ছন্ন সুদূর যুগান্তর, ধূসর সমুদ্রতলে যেন মগ্ন মহাতরী অকস্মাৎ ঝঞ্চাবর্তবলে, লয়ে তার সব ভাষা, সর্ব দিনরজনীর আশা, মুখরিত ক্ষুধাতৃষ্ণ, বাসনাপ্রদীপ্ত ভালোবাসা। তবু করি অনুভব বসি এই অনিত্যের বুকে, অসীমের হৃৎস্পন্দন তরঙ্গিছে মোর দুঃখে স্বথে । [ শাস্তিনিকেতন ] ৭ বৈশাখ ১৩৪১ 이 Jযেদিন চৈতন্য মোর মুক্তি পেল লুপ্তিগুহ হতে নিয়ে এল দুঃসহ বিস্ময়ঝড়ে দারুণ দুর্যোগে কোন নরকাগ্নিগিরিগহ্বরের তটে ; তপ্তধূমে গজি উঠি ফুসিছে সে মানুষের তীব্র অপমান, অমঙ্গলধ্বনি তার কম্পান্বিত করে ধরাতল, কালিমা মাথায় বায়ুস্তরে। দেখিলাম একালের আত্মঘাতী মূঢ় উন্মত্তত, দেখিয় সর্বাঙ্গে তার বিকৃতির কদর্য বিদ্রুপ। এক দিকে স্পর্ধিত ক্রুরতা, মত্ততার নির্লজ্জ হুংকার, অন্য দিকে ভীরুতার