পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ ২৬৯ ধরিয়া আসিয়াছে, বোধ হয় জর আসিবে, তুমি আজ আমাকে ফেলিয়। যাইতে পরিবে না।” o আমি কহিলাম, “সে আলাদা কথা । তোমার মুখটা একটু লাল দেখাইতেছে বটে ।” সেই লালট সভাস্থলে আমার দুরবস্থা কল্পনা করিয়া লজ্জায়, অথবা আসন্ন জরের আবেশে, সে কথা নি:সংশয়ে পর্যালোচনা না করিয়াই অামি ক্লাবের সেক্রেটারিকে স্ত্রীর পীড়ার কথা জানাইয়। নিষ্কৃতিলাভ করিলাম। বলা বাহুল্য, স্ত্রীর জরভাব অতি সত্বর ছাড়িয়া গেল। আমার অন্তরাত্মা কহিতে লাগিল, “আর-সব ভালো হইল, কিন্তু তোমার বাংলা বিদ্যা সম্বন্ধে তোমার স্ত্রীর মনে এই-যে সংস্কার, এটা ভালো নয়। তিনি নিজেকে মস্ত বিদুষী বলিয়৷ ঠাওরাইয়াছেন— কোনোদিন বা মশারির মধ্যে নাইটস্কুল খুলিয়। তিনি তোমাকে বাংলা পড়াইবার চেষ্ট করিবেন।” আমি কহিলাম, “ঠিক কথা— এই বেলা দৰ্প চূর্ণ না করিলে ক্রমে আর তাহার নাগাল পাওয়া যাইবে না।” সেই রাত্রেই তাহার সঙ্গে একটু খিটিমিটি বাধাইলাম। অল্প শিক্ষা যে কিরূপ ভয়ংকর জিনিস, পোপের কাব্য হইতে তাহার উদাহরণ উদ্ধার করিয়া তাহাকে শুনাইলাম। ইহাও বুঝাইলাম, কোনোমতে বানান এবং ব্যাকরণ বঁাচাইয়া লিখিলেই যে লেখা হইল তাহা নহে— আসল জিনিসটা হইতেছে আইডিয়া । কাশিয়া বলিলাম, “সেটা উপক্রমণিকায় পাওয়া যায় না— সেটার জন্ত মাথা চাই।” মাথা যে কোথায় আছে সে কথা তাহাকে স্পষ্ট করিয়া বলি নাই, কিন্তু তবু বোধ হয় কথাটা অস্পষ্ট ছিল না। আমি কহিলাম, “লিখিবার যোগ্য কোনো লেখা কোনো দেশে কোনোদিন কোনো স্ত্রীলোক লেখে নাই ।” শুনিয়া নিঝরিণীর মেয়েলি তাকিকতা চড়িয়া উঠিল। সে বলিল, “কেন মেয়ের লিখিতে পরিবে না। মেয়ের এতই কি হীন।” আমি কহিলাম, “রাগ করিয়া কী করিবে । দৃষ্টান্ত দেখাও-না।” নিঝরিণী কহিল, “তোমার মতো যদি আমার ইতিহাস পড়া থাকিত তবে নিশ্চয়ই আমি ঢের দৃষ্টান্ত দেখাইতে পারিতাম।” এ কথাটা শুনিয়া আমার মন একটু নরম হইয়াছিল, কিন্তু তর্ক এইখানেই শেষ হয় নাই। ইহার শেষ যেখানে সেট। পরে বর্ণনা করা যাইতেছে। ‘উদ্দীপনা বলিয়। মাসিক পত্রে ভালো গল্প লিখিবার জন্য পঞ্চাশ টাক। পুরস্কার २२॥SP