পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পগুচ্ছ २brd পটল ফিরিয়া আসিয়া যতীনকে ঘরের এক কোণে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল,

  • আশা আছে ?”

যতীন কুড়ানির কাছে আসিয়া তাহার নাড়ি দেখিয়া মাথা নাড়িয়া ইঙ্গিতে জানাইল যে, আশা নাই । পটল কুড়ানির কাছে আপনাকে প্রকাশ না করিয়া যতীনকে আড়ালে লইয়া কহিল, "যতীন, সত্য বলো, তুমি কি কুড়ানিকে ভালোবাস না।” যতীন পটলকে কোনো উত্তর না দিয়া কুড়ানির বিছানার পাশে আসিয়া বসিল । তাহার হাত চাপিয়া ধরিয়া নাড়া দিয়া কহিল, “কুড়ানি, কুড়ানি।” কুড়ানি চোখ মেলিয়া মুখে একটি শাস্ত মধুর হাসির আভাসমাত্র অনিয়া কহিল, “কী, দাদাবাবু।” যতীন কহিল, “কুড়ানি, তোমার এই মালাটি আমার গলায় পরাইয়া দাও।” কুড়ানি অনিমেষ অবুঝ চোখে যতীনের মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল। যতীন কহিল, “তোমার মালা আমাকে দিবে না ?” যতীনের এই আদরের প্রশ্রয়টুকু পাইয়া কুড়ানির মনে পূর্বকৃত অনাদরের একটুখানি অভিমান জাগিয়া উঠিল । সে কহিল, “কী হবে, দাদাবাবু।” যতীন দুই হাতে তাহার হাত লইয়া কহিল, “আমি তোমাকে ভালোবাসি, কুড়ানি।” শুনিয়া ক্ষণকালের জন্য কুড়ানি স্তব্ধ রহিল ; তাহার পরে তাহার দুই চক্ষু দিয়া অজস্র জল পড়িতে লাগিল। যতীন বিছানার পাশে নামিয়া হাটু গাড়িয়া বসিল, কুড়ানির হাতের কাছে মাথা নত করিয়া রাখিল । কুড়ানি গলা হইতে মালা খুলিয়৷ যতীনের গলায় পরাইয়া দিল । তখন পটল তাহার কাছে আসিয়া ডাকিল, “কুড়ানি।” কুড়ানি তাহার শীর্ণ মুখ উজ্জল করিয়া কহিল, “কী, দিদি ।” পটল তাহার কাছে আসিয়া তাহার হাত ধরিয়া কহিল, “আমার উপর তোর আর কোনো রাগ নাই, বোন ?” কুড়ানি স্নিগ্ধকোমলদূষ্টিতে কহিল, “না, দিদি।” পটল কহিল, "যতীন, একবার তুমি ও ঘরে যাও।” যতীন পাশের ঘরে গেলে পটল ব্যাগ খুলিয়া কুড়ানির সমস্ত কাপড়-গহনা তাহার মধ্য হইতে বাহির করিল। রোগিণীকে অধিক নাড়াচাড়া না করিয়া একখানি লাল বেনারসি শাড়ি সস্তপণে তাহার মলিন বস্ত্রের উপর জড়াইয়। দিল । পরে একে একে २२॥२०