পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


·©ግ• রবীন্দ্র-রচনাবলী Ç পিগুগুল আলোক চায় না, আকাশ চায় না, ৰাতাস চায় না, প্রাণ চায় না, মুক্তি চায় না। ইহার এই চির-অন্ধকারের মধ্যে চিরদিন উজ্জল হইয়া কঠিন হইয়া স্থির হইয়া রহিয়াছে। 曹 পৃথিবীতে এখন কি গোধূলি আসিয়াছে। আহ, সেই গোধূলির স্বর্ণ। ষে স্ব কেবল ক্ষণকালের জন্য চোখ জুড়াইয়া অন্ধকারের প্রাস্তে কাদিয়া বিদায় লইয়া যায়। তাহার পরে কুটিরের প্রাঙ্গণতলে সন্ধ্যাতারা একদৃষ্টে চাহিয়া থাকে। গোষ্ঠে প্রদীপ জালাইয়া বধূ ঘরের কোণে সন্ধ্যাদীপ স্থাপন করে। মন্দিরে আরতির ঘণ্টা বাজিয়া উঠে। গ্রামের ঘরের অতি ক্ষুদ্রতম তুচ্ছতম ব্যাপার আজ মৃত্যুঞ্জয়ের কল্পনাদৃষ্টির কাছে উজ্জল হইয়া উঠিল। তাহদের সেই-ষে ভোলা কুকুরট লেজে মাথায় এক হইয়া উঠানের প্রাস্তে সন্ধ্যার পর ঘুমাইতে থাকিত, সে কল্পনাও তাহাকে যেন ব্যথিত করিতে লাগিল। ধারাগোল গ্রামে কয়দিন সে যে মুদির দোকানে আশ্রয় লইয়াছিল সেই মুদি এতক্ষণ রাত্রে প্রদীপ নিবাইয়া দোকানে বীপ বন্ধ করিয়া ধীরে ধীরে গ্রামে বাড়িমুখে আহার করিতে চলিয়াছে, এই কথা স্মরণ করিয়া তাহার মনে হইতে লাগিল, মুদি কী স্বর্থেই আছে । আজ কী বার কে জানে। যদি রবিবার হয় তবে এতক্ষণে হাটের লোক যে যার আপন আপন বাড়ি ফিরিতেছে, সঙ্গচু্যত সাথিকে উর্ধ্বস্বরে ডাক পাড়িতেছে, দল বাধিয়া খেয়ানৌকায় পার হইতেছে ; মেঠে। রাস্ত। ধরিয়া, শস্তক্ষেত্রের আল বাহিয়া, পল্লীর শুষ্কবংশপত্ৰখচিত অঙ্গনপাশ্ব দিয়া চাষী লোক হাতে দুটাে-একটা মাছ ঝুলাইয়। মাথায় একটা চুপড়ি লইয়া অন্ধকারে আকাশভর তারার ক্ষীণালোকে গ্রামে গ্রামান্তরে চলিয়াছে। ধরণীর উপরিতলে এই বিচিত্র বৃহৎ চিরচঞ্চল জীবনযাত্রার মধ্যে তুচ্ছতম দীনতম হইয়া নিজের জীবন মিশাইবার জন্য শতস্তর মৃত্তিকা ভেদ করিয়া তাহার কাছে লোকালয়ের আহবান আসিয়া পৌছিতে লাগিল। সেই জীবন, সেই আকাশ, সেই আলোক, পৃথিবীর সমস্ত মণিমাণিক্যের চেয়ে তাহার কাছে দুমূল্য বোধ হইতে লাগিল। তাহার মনে হইতে লাগিল, কেবল ক্ষণকালের জন্য একবার যদি আমার সেই খামাজননী ধরিত্রীর ধূলিক্ৰোড়ে, সেই উন্মুক্ত আলোকিত নীলাম্বরের তলে, সেই তৃণপত্রের গন্ধবাসিত বাতাস বুক ভরিয়া একটিমাত্র শেষ নিশ্বাসে গ্রহণ করিয়া মরিতে পারি তাহ হইলেও জীবন সার্থক হয়। এমন সময় দ্বার খুলিয়া গেল। সন্ন্যাসী ঘরে প্রবেশ করিয়া কহিলেন, “মৃত্যুঞ্জয়,

  • 5te 1"