পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8는 8 রবীন্দ্র-রচনাবলী । খাওয়াইতে লাগিলেন তখন রসিক তাহার এত অাদরের মূল কারণ স্থদুর আকাশের গ্রহনক্ষত্র ছাড়া আর-কোথাও খুজিয়া পাইল না। - কিন্তু তাহার শুভগ্রহটি অত্যন্ত দূরে ছিল না। তাহার একটু সংক্ষিপ্ত বিবরণ বল অবিশু্যক । একদিন জানকীবাবুর অবস্থা এমন ছিল না । তিনি যখন কষ্ট করিয়া কলেজে পড়িতেন তখন র্তাহার সতীর্থ হরমোহন বস্থ ছিলেন তাহার পরম বন্ধু। হরমোহন ব্ৰাহ্মসমাজের লোক। এই কমিশন এজেন্সি হরমোহনদেরই পৈতৃক বাণিজ্য— র্তাহীদের একজন মুরুব্বি ইংরেজ সদাগর তাহার পিতাকে অত্যন্ত ভালোবাসিতেন। তিনি র্তাহাকে এই কাজে জুড়িয়া দিয়াছিলেন। হরমোহন র্তাহার নিঃস্ব বন্ধু জানকীকে এই কাজে টানিয়া লইয়াছিলেন । সেই দরিদ্র অবস্থায় নূতন যৌবনে সমাজসংস্কার সম্বন্ধে জানকীর উৎসাহ হরমোহনের চেয়ে কিছুমাত্র কম ছিল না। তাই তিনি পিতার মৃত্যুর পরে তাহার ভগিনীর বিবাহের সম্বন্ধ ভাঙিয়া দিয়া তাহাকে বড়ো বয়স পর্যস্ত লেখাপড়া শিখাইতে প্রবৃত্ত হইলেন। ইহাতে র্তাহাদের তত্ত্ববায়সমাজে যখন র্তাহার ভগিনীর বিবাহ অসম্ভব হইয়া উঠিল তখন কায়স্থ হরমোহন নিজে তাহাকে এই সংকট হইতে উদ্ধার করিয়া এই মেয়েটিকে বিবাহ করিলেন । তাহার পরে অনেকদিন চলিয়া গিয়াছে। হরমোহনেরও মৃত্যু হইয়াছে— তাহার ভগিনী ও মারা গেছে। ব্যাবসাটিও প্রায় সম্পূর্ণ জানকীর হাতে আসিয়াছে। ক্রমে বাসাবাড়ি হইতে তাহার তেতালা বাড়ি হইল, চিরকালের নিকেলের ঘড়িটিকে অপমান করিয়া তাড়াইয়া দিয়া সোনার ঘড়ি সুয়োরানীর মতো তাহার বক্ষের পাশ্বে টিকৃটিকৃ করিতে লাগিল । এইরূপে র্তাহার তহবিল যতই স্ফীত হইয়া উঠিল, অল্পবয়সের অকিঞ্চন অবস্থার সমস্ত উৎসাহ ততই তাহার কাছে নিতান্ত ছেলেমামুষি বলিয়া বোধ হইতে লাগিল । কোনোমতে পারিবারিক পূর্ব-ইতিহাসের এই অধ্যায়টাকে বিলুপ্ত করিয়া দিয়া সমাজে উঠিবার জন্য র্তাহার রেখে চাপিয়া উঠিল। নিজের মেয়েটিকে সমাজে বিবাহ দিবেন এই তাহার জেদ। টাকার লোভ দেখাইয়া দুই-একটি পাত্রকে রাজি করিয়াছিলেন, কিন্তু যখনই তাহাদের আত্মীয়ের খবর পাইল তখনই তাহারা গোলমাল করিয়া বিবাহ ভাঙিয়া দিল । শিক্ষিত সৎপাত্র না হইলেও তাহার চলে – কন্যার চিরজীবনের স্থখ বলিদান দিয়াও তিনি সমাজদেবতার প্রসাদলাভের জন্য উৎসুক হইয়। উঠিলেন । এমন সময়ে তিনি র্তীতের ইস্কুলের মাস্টারের খবর পাইলেন। সে থানাগড়ের