পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


p 雪 পারস্তে 8'లివె রাখবার খাতিরে পাল দেখতে হয়েছে সুন্দর। পাখির পাথাও বাতাসের সঙ্গে মিল করে চলে, তাই এমন তার সুষমা। আবার সেই পাখায় রঙের সামঞ্জস্তও কত। এই তো হল প্রাণীর কথা তার পরে মেঘের লীলা— হুর্যের আলো থেকে কত রকম রঙ ছেকে নিয়ে আকাশে বানায় খেয়ালের খেলাঘর / মাটির পৃথিবীতে চলায় ফেরায় স্বন্ধের চেহারা, সেখানে ভারের রাজত্ব, সকল কাজেই বোঝা ঠেলতে হয়। বায়ুলোকে এতকাল যা আমাদের মন ভুলিয়েছে সে হচ্ছে ভারের অভাব, সুন্দরের সহজ সঞ্চরণ। এতদিন পরে মানুষ পৃথিবী থেকে ভারটাকে নিয়ে গেল আকাশে। তাই তার ওড়ার যে চেহারা বেরল সে জোরের চেহারা । তার চলা বাতাসের সঙ্গে মিল করে নয়, বাতাসকে পীড়িত করে ; এই পীড়া ভূলোক থেকে আজ গেল দু্যলোকে। এই পীড়ায় পাখির গান নেই, জন্তুর গর্জন আছে। ভূমিতল আকাশকে জয় করে অাজ চিৎকার করছে । সূর্য উঠল দিগন্তরেখার উপরে। উদ্ধত যন্ত্রট অরুণরাগের সঙ্গে আপন মিল করবার চেষ্টামাত্র করে নি। আকাশনীলিমার সঙ্গে ওর অসবর্ণতা বেস্করো, অস্তরীক্ষের রঙমহলে মেঘের সঙ্গে ওর অমানান রয়ে গেল। আধুনিক যুগের দূত, ওর সেটিমেন্টের বালাই নেই ; শোভাকে ও অবজ্ঞা করে ; অনাবশ্বককে কনুইয়ের ধাক্কা মেরে চলে যায়। যখন পূর্বদিগন্ত রাঙা হয়ে উঠল, পশ্চিমদিগন্তে যখন কোমল নীলের উপর গুক্তিশুভ্র আলো, তখন তার মধ্য দিয়ে ওই যন্ত্রটা প্রকাও একটা কালে। তেলাপোকার মতো ভন ভন করে উড়ে চলল । বায়ুতন্ত্রী যতই উপরে উঠল ততই ধরণীর সঙ্গে আমাদের পঞ্চ ইঞ্জিয়ের যোগ সংকীর্ণ হয়ে একটা মাত্র ইন্দ্রিয়ে এসে ঠেকল, দৰ্শন-ইন্দ্রিয়ে, তাও ঘনিষ্ঠভাবে নয়। নানা সাক্ষ্য মিলিয়ে যে পৃথিবীকে বিচিত্র ও নিশ্চিত করে জেনেছিলুম সে ক্রমে এল । ক্ষীণ হয়ে, যা ছিল তিন আয়তনের বাস্তব তা হয়ে এল দুই আয়তনের ছবি। সংহত দেশকালের বিশেষ বিশেষ কাঠামোর মধ্যেই স্বাক্টর বিশেষ বিশেষ রূপ। তার সীমানা যতই অনির্দিষ্ট হতে থাকে, স্বষ্টি ততই চলে বিলীনতার দিকে। সেই বিলয়ের ভূমিকার মধ্যে দেখা গেল পৃথিবীকে, তার সত্তা হল অস্পষ্ট, মনের উপর তার অস্তিত্বের দাবি এল কমে। মনে হল, এমন অবস্থায় আকাশযানের থেকে মানুষ যখন শতী বর্ষণ করতে বেরয় তখন সে নির্মমভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে ; যাদের মারে তাদের অপরাধের হিসাববোধ উদ্যত বাহুকে দ্বিধাগ্রস্ত করে না, কেননা, হিসাবের অন্ধটা অদৃপ্ত হয়ে যায়। ষে বাস্তবের পরে মানুষের স্বাভাবিক মমতা, সে যখন ঝাপসা হয়ে আসে তখন মমতারও আধার স্বায় লুপ্ত হয়ে। গীতায় প্রচারিত