পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ö পারস্তে 88ぬ এ কথা নিশ্চিত মনে রাখতে হবে, যুরোপ আজ নিজের ঘরে এবং নিজের বাইরে আপন বন্দীদের হাতেই বন্দী। ১৯১২ খ্রীস্টাব্দে যখন যুরোপে গিয়েছিলুম তখন একজন ইংরেজ কবি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি এখানে কেন এসেছ । আমি বলেছিলুম, ‘যুরোপে মানুষকে দেখতে এসেছি। যুরোপে জ্ঞানের অালো জলছে, প্রাণের আলো জলছে, তাই সেখানে মানুষ প্রচ্ছন্ন নয়, সে নিজেকে নিয়ত নানা দিকে প্রকাশ করছে। সেদিন পারস্যেও আমাকে একজন ঠিক সেই প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, পারস্তে যে মানুষ সত্যিই পারসিক তাকেই দেখতে এসেছি।’ তাকে দেখবার কোনো আশা থাকে না দেশে যদি আলো না থাকে। জলছে আলো জানি । তাই পারস্য থেকে যখন আহবান এল তখন আবার একবার দূরের আকাশের দিকে চেয়ে মন চঞ্চল হল । রোগশয্যা থেকে তখন সবে উঠেছি। ডাক্তারকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলুম না— সাহস ছিল না— গরমের দিনে জলস্থলের উপর দিয়ে রৌদ্রের তাপ এবং কলের নাড়া খেতে খেতে দীর্ঘ পথ বেয়ে চলব সে সাহসের ও অভাব ছিল । আকাশযানে উঠে পড়লুম। ঘরের কোণে একলা বসে যে বালক দিনের পর দিন আকাশের দিকে তাকিয়ে দূরের আহবান শুনতে পেত আজ সেই দূরের আহবানে সে সাড়া দিল ওই আকাশের পথ বেয়েই। পারস্তের দ্বারে এসে নামলুম দুদিন পরেই। তার পরদিন সকালে পৌছলুম বুশেয়ারে। \O বুশেয়ার সমুদ্রের ধারে জাহাজ-ঘাটার শহর। পারস্তের অন্তরঙ্গ স্থান এ নয়। বৈকালে পারসিক পার্লামেণ্টের একজন সদস্য আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন । জিজ্ঞাসা করতে চাইলেন আমি কী জানতে চাই। বললুম, পারস্তের শাশ্বত স্বরূপটি জানতে চাই, যে পারস্য আপন প্রতিভায় স্বপ্রতিষ্ঠিত। তিনি বললেন, বড়ো মুশকিল। সে পারস্ত কোথায় কে জানে। এ দেশে এক বৃহৎ দল আছে তারা অশিক্ষিত, পুরোনো তাদের মধ্যে অপভ্রষ্ট, নতুন তাদের মধ্যে অমৃদ্‌গত। শিক্ষিত বিশেষণে যার খ্যাত তারা আধুনিক ; নতুনকে তারা চিনতে আরম্ভ করেছে, পুরোনোকে তারা চেনে না। এই প্রসঙ্গে আমার বক্তব্য এই যে, সকলেরই মধ্যে দেশ প্রকাশমান নয়, বহুর মধ্যে সে অস্পষ্ট অনির্দিষ্ট । দেশের যথার্থ প্রকাশ কোনো কোনো বিশেষ মানুষের জীবনে ও