পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বাবিংশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী ما ج 4) আপনারা জানেম ছৰ্ভাগ্যবশত বয়স এবং স্বাস্থ্য দূরত্বের ব্যবধানকে অতিক্রম করতে বাধা দেয় ; তাই আপনাদের এই সাদর অভ্যর্থনার পরিবর্তে আপনার আমার কাছে যতখানি আশা করেন হয়তো তার সবটুকু সফল করে তোলা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না । শুনলেম, আজকের দিনে আমাকে এই নিমন্ত্রণ প্রধানত বোগদাদের সাহিত্যিকদের তরফ থেকে । আমি যে দলের লোক বলে গৌরব অনুভব করি আমাকে সর্বসাধারণে র্তারাই যে প্রথমে অভিনন্দন করবেন এটা স্বাভাবিক। আজ হৃদয়ে অপরিসীম আনন্দ বোধ করছি এই ভেবে যে, আমার কিছু কিছু রচনা আপনাদের ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং আপনাদের অন্তরে প্রবেশ লাভ করতে পেরেছে। সেই রচনাগুলির মধ্য দিয়ে আমি আগেই আপনাদের নিকট পরিচিত হয়েছি। এতে নূতন করে এই প্রমাণ হয় যে, সাহিত্যের ক্ষেত্রে জাতির প্রভেদ নেই, আমাদের ভাবরাজি অবাধে মেলামেশা করে পরস্পরের সহযোগিতায় এমন একটা পরিপূর্ণতা স্বষ্টি করতে পারে যার মধ্যে চিরন্তন মানবের কল্যাণ নিহিত আছে। ইতিহাস মানুষের প্রতি বিশেষ সদয় হয় নি। প্রবল জাতির লোলুপতা দুর্বল জাতিকে অসংখ্য বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে ; অন্যায়ক্ষুধাপরিতৃপ্তির জন্ত দুর্বল জাতিকে শোষণ করতে তারা কুষ্ঠিত নয়। তাই আজ মনুষ্যত্ব পরস্পরের প্রতি সন্দেহে, দুঃখে, যন্ত্রণা-জর্জরিত। অসামঞ্জস্তের গ্লানি আমাদের জীবনকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। পরস্পরের এই অস্বাভাবিক সম্বন্ধের বেদনা থেকে মনুষ্যত্বকে উদ্ধার করা, পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির জীবনযাত্রাকে উচ্চতর স্বরে বেঁধে তোলা— সে তো আমাদেরই কাজ - অমর। যার। সাহিত্যের মন্দিরে আমাদের জীবন উৎসর্গ করেছি । আমরা যে দেশেরই সন্তান হই-না কেন আমাদের জীবনের এই এক উদ্দেশ্য। মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন ও মৈত্রীস্থাপনের এই সম্মিলিত চেষ্টার মধ্য দিয়ে আমাদের মনুষ্যত্বের পাকা ভিত গাঁথিতে হবে । মানবজাতিকে আত্মঘাতী সংগ্রাম ও উন্মত্ত কুসংস্কারের বর্বরতা থেকে রক্ষা করবে এই মিলনের উপনিবেশ। নূতন যুগের স্থচনা করব আমরা— শুভবুদ্ধির যুগ, সহযোগিতার যুগ, যার মধ্যে ভাবের পরস্পর আদানপ্রদানের দ্বারা মকুন্তত্বের বিপুল ঐশ্বর্য পরিস্ফুট হয়ে উঠবে। বন্ধুগণ, প্রাণের মধ্যে এই অদম্য আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আজ আমি আপনাদের মাঝখানে এসেছি। অামার প্রাণের এই গোপন কথাটি আজ আপনাদের বলি, যে গোপন উদ্দেশ্য গভীরতম অস্তরে পোষণ করে আজ আপনাদের দেশে বেড়াতে এসেছি। আমার আহবান এই – আস্থন আমরা পরস্পর মিলিত হয়ে ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক