পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(ջՆ-3 রবীন্দ্র-রচনাবলী প্রত্যেক শাখা ভরিয়া যায়। তখন সমস্ত দিন এক পায়ের উপর দাড়াইয়া দাড়াইয়া ভাবিতে থাকে আমার কেবল কতকগুলা পাতা হইল কেন, পাখা হইল না কেন । यानं★र१ निशां श्हेब्रा ७ड डैहू इहेब्रा नाफ़ाहेबा चाहि, उबू प्कन बरथडे नबियांप्4 দেখিতে পাইতেছি না। ঐ দিগন্তের পরপারে কী আছে। ঐ মাকাশের তারাগুলি ষে-গাছের শাখায় ফুটিয়া আছে সে-গাছ কেমন করিয়া নাগাল পাইব ? আমি কোথা হইতে আসিলাম, কোথায় যাইব, এ কথা যত ক্ষণ না স্থির হইবে তত ক্ষণ আমি পাতা ঝরাইয়া ডাল শুকাইয়া কাঠ হইয়া দাড়াইয়া ধ্যান করিতে থাকিব । আমি আছি অথবা আমি নাই, অথবা আমি আছিও বটে, নাইও বটে, এ প্রশ্নের যত ক্ষণ মীমাংসা না হয় তত ক্ষণ আমার জীবনে কোনো মুখ নাই। দীর্ঘ বর্ষার পর বেদিন প্রাতঃকালে প্রথম স্বর্ধ ওঠে, সেদিন আমার মজ্জার মধ্যে যে একটি পুলক-সঞ্চার হয় সেটা আমি ঠিক কেমন করিয়া প্রকাশ করিব, এবং শীতাস্তে ফান্তনের মাঝামাঝি যেদিন হঠাৎ সায়ংকালে একটা দক্ষিণের বাতাস ওঠে, সেদিন ইচ্ছা করে—কী ইচ্ছা করে কে আমাকে বুঝাইয়া দিবে। এই সমস্ত কাও । গেল বেচারার ফুল ফোটানে, রসশস্তপূর্ণ আতাফল পাকানো। যাহা আছে তাহা অপেক্ষা বেশি হইবার চেষ্টা করিয়া, ষে রকম আছে আর এক রকম হইবার ইচ্ছা করিয়া, না হয় এদিক, না হয় ওদিক । অবশেষে এক দিন হঠাৎ অস্তর্বেদনায় গুড়ি হইতে অগ্রশাখা পর্যস্ত বিদীর্ণ হইয়া বাহির হয়, একটা সাময়িক পত্রের প্রবন্ধ, একটা সমালোচনা, অরণ্যসমাজ সম্বন্ধে একটা অসাময়িক তত্ত্বোপদেশ । তাহার মধ্যে না থাকে সেই পরবমর্মর, না থাকে সেই ছায়া, না থাকে সর্বাঙ্গব্যাপ্ত সরস সম্পূর্ণতা। যদি কোনো প্রবল শয়তান সরীস্বপের মতো লুকাইয়া মাটির নিচে প্রবেশ করিয়া, শতলক্ষ স্বাকাবাকা শিকড়ের ভিতর দিয়া পৃথিবীর সমস্ত তরুলতা-তৃণগুন্মের মধ্যে মনঃসঞ্চার করিয়া দেয় তাহা হইলে পৃথিবীতে কোথায় জুড়াইবার স্থান থাকে। ভাগ্যে বাগানে আসিয়া পাখির গানের মধ্যে কোনো অর্থ পাওয়া যায় না এবং অক্ষরহীন সবুজ পত্রের পরিবর্তে শাখায় শাখায় শুষ্ক শ্বেতবর্ণ মাসিক পত্র, সংবাদপত্র এবং বিজ্ঞাপন ঝুলিতে দেখা যায় না! க ভাগ্যে গাছেদের মধ্যে চিন্তাশীলতা নাই! ভাগ্যে ধুতুরাগাছ কামিনীগাছকে সমালোচনা করিয়া বলে না, তোমার ফুলের কোমলতা আছে, কিন্তু ওজস্বিতা নাই এবং কুলফল কাঠালকে বলে না, তুমি আপনাকে বড়ো মনে কর কিন্তু আমি তোমা অপেক্ষ কুষ্মাগুকে ঢের উচ্চ আসন দিই। কদলী বলে না, আমি সর্বাপেক্ষ জয়