পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৬৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\elరి\ు রবীন্দ্র-রচনাবলী ধনীরাও যে অশোভন ভাবে থাকে সেটা কেবল জড়তা এবং মুঢ়তা বশত, অর্থের অভাবে নহে । যাহার টাকা আছে সে মনে করে জুড়িগাড়ি না হইলে তাহার ঐশ্বৰ প্রমাণ হয় না, কিন্তু তাহার অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলে দেখা যায় যে, তাহা ভদ্রলোকের গোশালারও অযোগ্য। অহংকারের পক্ষে যে আয়োজন আবশ্যক তাহার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আছে কিন্তু আত্মসম্মানের জন্ত, স্বাস্থ্যশোভার জন্য যাহা আবশ্বক তাহার বেলায় আমাদের টাকা কুলায় না। আমাদের মেয়েরা এ কথা মনেও করে না যে, সৌন্দর্ধবৃদ্ধির জন্ত যতটুকু অলংকার আবগুক তাহার অধিক পরিয়া ধনগৰ্ব প্রকাশ করিতে যাওয়া ইতরজনোচিত অভদ্রতা—এবং সেই অহংকারত্বপ্তির জন্য টাকার অভাব হয় না, কিন্তু প্রাঙ্গণপূর্ণ আবর্জনা এবং শয়নগৃহভিত্তির তৈলকঙ্গলময় মলিনতা মোচনের তাহাদের কিছু মাত্র সত্বরতা নাই। টাকার অভাব নহে, আমাদের দেশে যথার্থ ভদ্রতার আদর্শ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয় নাই । স্রোতস্বিনী কহিল,—তাহার প্রধান কারণ, আমরা অলস। টাকা থাকিলেই বড়োমাহুষি করা যায়, টাকা না থাকিলেও ধার করিয়া নবাবি করা চলে, কিন্তু ভদ্র হইতে গেলে আলস্ত-অবহেলা বিসর্জন করিতে হয়—সর্বদা আপনাকে উন্নত সামাজিক আদশের উপযোগী করিয়া প্রস্তুত রাখিতে হয়, নিয়ম স্বীকার করিয়া আত্মবিসর্জন कब्रिएउ इम्न । ক্ষিতি কহিল,—কিন্তু আমরা মনে করি আমরা স্বভাবের শিশু—অতএব অত্যন্ত সরল। ধুলায় কাদায় নগ্নতায়, সর্বপ্রকার নিয়মহীনতায় আমাদের কোনো লঙ্গ নাই—আমাদের সকলই অকৃত্রিম এবং সকলই আধ্যাত্মিক । অপূর্ব রামায়ণ বাড়িতে একটা শুভকাৰ্ধ ছিল, তাই বিকালের দিকে অদূরবর্তী মঞ্চের উপর হইতে বারোয়। রাগিণীতে নহৰত বাজিতেছিল। বোম অনেক ক্ষণ মূত্রিতচক্ষে থাকিয়া হঠাৎ চক্ষু খুলিয়া বলিতে আরম্ভ করিল— আমাদের এই সকল দেশীয় রাগিণীর মধ্যে একটা পরিব্যাপ্ত মৃত্যুশোকের ভাব আছে ; স্বরগুলি কাদিয়া কাদিয়া বলিতেছে, সংসারে কিছুই স্থায়ী হয় না। সংসারে সকলই অস্থায়ী, এ কথাটা সংসারীর পক্ষে নূতন নহে, প্রিয়ও নহে, ইহা একটা অটল