পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী সাস্তুনা সকালের আলো এই বাদলবাতাসে মেঘে রুদ্ধ হয়ে আসে ভাঙা কণ্ঠে কথার মতন। মোর মন এ অস্ফুট প্রভাতের মতো কী কথা বলিতে চায়, থাকে বাক্যহত । মানুষের জীবনের মজ্জায় মজ্জায় যে-দুঃখ নিহিত আছে অপমানে শঙ্কায় লজ্জায়, কোনো কালে যার অন্ত নাই, আজি তাই নির্যাতন করে মোরে । আপনার দুর্গমের মাঝে সানার চির-উৎস কোথায় বিরাজে, যে-উৎসের গৃঢ় ধারা বিশ্বচিত্ত-অন্তঃস্তরে উন্মুক্ত পথের তরে নিত্য ফিরে যুঝে, আমি তারে মরি খুজে । আপন বাণীতে কী পুণ্যে বা পারিব আনিতে সেই সুগম্ভীর শাস্তি, নৈরাশ্বের তীব্র বেদনারে স্তন্ধ যা করিতে পারে । হায় রে ব্যথিত, নিখিল-আত্মার কেন্দ্রে বাজে অকথিত আরোগ্যের মহামন্ত্র, যার গুণে স্বজনের হোমের আগুনে নিজেরে আহুতি দিয়া নিত্য সে নবীন হয়ে উঠে,প্রাণেরে ভরিয়া তুলে নিত্যই মৃত্যুর করপুটে । সেই মন্ত্র শাস্ত মৌনতলে শুনা যায় আত্মহারা তপস্যার বলে ।