পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৬৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রক্তকরবী ○8ぬ আমার তো আছে বস্তুতত্ত্ববিদ্যা, তার গহবরের মধ্যে ঢুকে পড়িগে, আর সাহস হচ্ছে না । ( খানিকট গিয়ে ফিরে এসে ) নন্দিনী, একটা কথা তোমাকে জিজ্ঞাসা করি, যক্ষপুরীকে তোমার ভয় করছে না ? নন্দিনী । ভয় করবে কেন । অধ্যাপক । গ্রহণের সূর্যকে জন্তুর ভয় করে, পুর্ণ সূর্যকে ভয় করে না। যক্ষপুরী গ্রহণলাগা পুরী । সোনার গর্তের রাহুতে ওকে খাবলে খেয়েছে । ও নিজে আস্ত নয়, কাউকে আস্ত রাখতে চায় না। আমি তোমাকে বলছি, এখানে থেকে না। তুমি চলে গেলে ওই গর্তগুলো আমাদের সামনে আরো হা করে উঠবে ; তবু বলছি, পালাও। যেখানকার লোকে দস্থ্যবৃত্তি করে মা বস্থঙ্করার আঁচলকে টুকরো টুকরো করে ছেড়ে না, সেইখানে রঞ্জনকে নিয়ে মুখে থাকোগে । ( কিছুদূর গিয়ে ফিরে এসে ) নন্দিনী, তোমার ডান হাতে ওই যে রক্তকরবীর কঙ্কণ, ওর থেকে একটি ফুল খসিয়ে দেবে ? নন্দিনী । কেন, কী করবে তুমি । অধ্যাপক। কতবার ভেবেছি, তুমি যে রক্তকরবীর আভরণ পর, তার একটা কিছু মানে আছে । নন্দিনী । আমি তো জানি নে কী মানে । অধ্যাপক। হয়তো তোমার ভাগ্যপুরুষ জানে। এই রক্ত-আভায় একটা ভয়লাগানো রহস্ত আছে, শুধু মাধুর্য নয়। নন্দিনী । আমার মধ্যে ভয় ? অধ্যাপক। সুন্দরের হাতে রক্তের তুলি দিয়েছে বিধাতা । জানি নে, রাঙা রঙে তুমি কী লিখন লিখতে এসেছ । মালতী ছিল, মল্লিকা ছিল, ছিল চামেলি ; সব বাদ দিয়ে এ-ফুল কেন বেছে নিলে । জান, মাহুষ না জেনে আমনি করে নিজের ভাগ্য বেছে নেয় ? : নন্দিনী । রঞ্জন আমাকে কখনো কখনো আদর ক'রে বলে রক্তকরবী । জানি নে আমার কেমন মনে হয়, আমার রঞ্জনের ভালোবাসার রঙ রাঙা, সেই রঙ গলায় পরেছি, বুকে পরেছি, হাতে পরেছি। r অধ্যাপক। তা আমাকে ওর একটি ফুল দাও, শুধু ক্ষণকালের দান, ওর রঙের তত্ত্বটি বোঝবার চেষ্টা করি । o নন্দিনী । এই নাও। আজ রঞ্জন আসবে, সেই আনন্দে এই ফুলটি তোমাকে দিলুম। * [ অধ্যাপকের প্রস্থান >Q闘R○