পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রক্তকরবী WÒ( S নন্দিনী। আমাকে মানায় না, আমার মালা রক্তকরবীর । নেপথ্যে। আমি পর্বতের চুড়ার মতো, শূন্যতাই আমার শোভা । নন্দিনী । সেই চুড়ার বুকেও ঝরনা ঝরে, তোমার গলাতেও মালা দুলবে। জাল খুলে দাও, ভিতরে যাব । নেপথ্যে। আসতে দেব না, কী বলবে শীঘ্র বলে । সময় নেই। নন্দিনী । দূর থেকে ওই গান শুনতে পাচ্ছ ? নেপথ্যে । কিসের গান । নন্দিনী । পৌষের গান। ফসল পেকেছে, কাটতে হবে, তারি ডাক । গান পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে— আয় রে চলে, অণয় আয় অণয় । ডাল-যে তার ভরেছে আজ পাক ফসলে, মরি, হায় হায় হয় । দেখছ না, পৌষের রোদ র পাকা ধানের লাবণ্য আকাশে মেলে দিচ্ছে ? হাওয়ার নেশায় উঠল মেতে দিগ্বধূর ধানের খেতে, রোদের সোনা ছড়িয়ে পড়ে মাটির আঁচলে— মরি, হায় হায় হায় । তুমিও বেরিয়ে এসে রাজা, তোমাকে মাঠে নিয়ে যাই । মাঠের বঁশি শুনে শুনে আকাশ খুশী হল,— ঘরেতে আজ কে রবে গো । থোলো দুয়ার খোলো । নেপথ্যে। আমি মাঠে যাব ? কোন কাজে লাগব । নন্দিনী । মাঠের কাজ তোমার যক্ষপুরীর কাজের চেয়ে অনেক সহজ । নেপথ্যে। সহজ কাজটাই আমার কাছে শক্ত। সরোবর কি ফেনার-নৃপুরু-পরা ঝরনার মতো নাচতে পারে। যাও যাও, আর কথা কয়ে না, সময় নেই । নন্দিনী । অদ্ভুত তোমার শক্তি। যেদিন আমাকে তোমার ভাণ্ডারে ঢুকতে দিয়েছিলে, তোমার সোনার তাল দেখে কিছু আশ্চর্য হই নি, কিন্তু যে বিপুল শক্তি দিয়ে অনায়াসে সেইগুলোকে নিয়ে চুড়ো করে সাজাচ্ছিলে, তাই দেখে মুগ্ধ হয়েছিলুম।