পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী טףס সর্দার। অভ্যেস এখনি শুরু করাতে দোষ কী। মোড়ল । সে-চেষ্টা করা গেল। বড়ো মোড়ল এল কোটালকে নিয়ে। মাকুষটার ভয়ডর কিছুই নেই। গলায় একটু শাসনের স্বর লেগেছে কি অমনি হো হো করে হেসে ওঠে। জিজ্ঞাসা করলে বলে, ‘গাম্ভীর্য নির্বোধের মুখোশ, আমি তাই খসাতে এসেছি।’ 輔 সর্দার। ওকে সুড়ঙ্গের মধ্যে দলে ভিড়িয়ে দিলে না কেন । মোড়ল । দিয়েছিলুম, ভাবলুম চাপে পড়ে বশ মানবে। উলটো হল, খোদাইকরদের উপর থেকেও যেন চাপ নেমে গেল। তাদের মাতিয়ে তুললে, বললে, ‘আজ আমাদের খোদাইনৃত্য হবে।’ সর্দার। খোদাইনৃত্য ? তার মানে কী । মোড়ল । রঞ্জন ধরলে গান, ওরা বললে, ‘মাদল পাই কোথায়’, ও বললে, ‘মাদল না থাকে, কোদাল আছে।’ তালে তালে কোদাল পড়তে লাগল ; সোনার পিণ্ড নিয়ে সে কী লোফালুফি । বড়ো মোড়ল স্বয়ং এসে বললে, “এ কেমন তোমার কাজের ধারা। রঞ্জন বললে, ‘কাজের রশি খুলে দিয়েছি, তাকে টেনে চালাতে হবে না, নেচে চলবে ? সর্দার । লোকটা পাগল দেখছি । মোড়ল । ঘোর পাগল । বললুম, কোদাল ধরে।’ ও বলে, “তার চেয়ে বেশী কাজ হবে যদি একটা সারেঙ্গি এনে দাও।” সর্দার । তোমরা ওকে বজগড়ে নিয়ে গিয়েছিলে, সেখান থেকে কুবেরগড়ে এল কী করে । _ মোড়ল । কী জানি, প্রভু। শিকল দিয়ে তো ওকে কষে বাধা গেল। খানিক বাদে দেখি, কেমন করে পিছলে বেরিয়ে এসেছে— ওর গায়ে কিছু চেপে ধরে না । আর, ও কথায়-কথায় সাজ বদল ক’রে চেহারা বদল করে । আশ্চর্য ওর ক্ষমতা । কিছুদিন ও এখানে থাকলে খোদাইকরগুলো পর্যন্ত বাধন মানবে না। সর্দার। ওকি । ওই-না রঞ্জন, রাস্তা দিয়ে চলেছে গান গেয়ে ? একটা ভাঙা সারেঙ্গি জোগাড় করেছে। স্পর্ধা দেখো, একটু লুকোবারও চেষ্টা নেই। মোড়ল । তাই তো । কখন গারদের ভিত কেটে বেরিয়ে এসেছে। ভেলকি জানে । সর্দার । যাও, এই বেলা ধরোগে ওকে। এপাড়ায় নন্দিনীর সঙ্গে যেন কিছুতে মিলতে না পারে ।