পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রক্তকরবী vరిఫ్ఫి সর্দার। রাজার প্রতি কর্তব্যের অনুরোধেই রাজাকে ঠকাতে হয়, রাজাকে ঠেকাতেও হয়। সে দায় আমার। এবার কিন্তু ওই মেয়েটাকে অবিলম্বে— । মেজো সর্দার । না না, এ-সব কথা আমার সঙ্গে নয়। যে-মোড়লের উপর ভার দেওয়া হয়েছে সে যোগ্য লোক, সে কোনোরকম নোংরামিকেই ভয় করে না । সর্দার। কেনারাম গোসাই কি জানে রঞ্জনের কথা । মেজো সর্দার। আন্দাজে সবই জানে, পস্ট জানতে চায় না। সর্দার । কেন । _ মেজো সর্দার। পাছে ‘জানি নে এই কথা বলবার পথ বন্ধ হয়ে যায়। সর্দার। হলই বা । মেজো সর্দার। বুঝছ না? আমাদের তো শুধু একটা চেহারা, সর্দারের চেহারা। কিন্তু ওর-যে এক পিঠে গোসাই, আরেক পিঠে সর্দার। নামাবলিট একটু ফেঁসে গেলেই সেটা ফাস হয়ে পড়ে। তাই সর্দারিধর্মটা নিজের অগোচরে পালন করতে হয়, তা-হলে নামজপের বেলায় খুব বেশী বাধে না । সর্দার । নামজপটা না-হয় ছেড়েই দিত। মেজো সর্দার। কিন্তু এদিকে যে ওর মনটা ধর্মভীরু, রক্তটা যাই হ’ক । তাই স্পষ্টভাবে নামজপ আর অস্পষ্টভাবে সর্দারি করতে পারলে ও সুস্থ থাকে। ও আছে বলেই আমাদের দেবতা আরামে আছে, তার কলঙ্ক ঢাকা পড়েছে, নইলে চেহারাট ভালো দেখাত না । সর্দার । মেজো সর্দার, তোমারে দেখেছি রক্তের সঙ্গে সর্দারির রক্তের মিল হয় নি । মেজো সর্দার । রক্ত শুকিয়ে এলেই বালাই থাকবে না, এখনো সে-আশা আছে। কিন্তু আজো তোমার ওই তিনশো-একুশকে সইতে পারি নে। যাকে দূর থেকে চিমটে দিয়ে ছুতেও ঘেন্না করে, তাকে যখন সভার মাঝখানে স্বহৃদ বলে বুকে জড়িয়ে ধরতে হয়, তখন কোনো তীৰ্থজলে স্বান করে নিজেকে শুচি বোধ হয় না।— ওই-যে নন্দিনী আসছে। সর্দার । চলে এসো, মেজো সর্দার । মেজো সর্দার । কেন । ভয় কিসের । সর্দার । তোমাকে বিশ্বাস করি নে ; আমি জানি, তোমার চোখে নন্দিনীর ঘোর লেগেছে । মেজো সর্দার। কিন্তু তুমি জানো না যে, তোমার চোখেও কর্তব্যের রঙের