পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী مناس8b কিন্তু তিনি অনন্ত বলেই সর্বত্রই ধরা দিয়েই আছেন— এইজন্যে র্তার আনন্দরূপের অমৃতরূপের প্রকাশ সকল দেশে, সকল কালে । তার সেই প্রকাশ যদি আমাদের মানবজীবনের মধ্যে দেখে থাকি তবে মৃত্যুর পরেও তাকে নূতন করে দেখতে পাব, এই আশা আমাদের মধ্যে উজ্জল হয়ে ওঠে। মানবজীবনে সে সুযোগ যদি না ঘটে থাকে, অর্থাৎ যদি না জেনে থাকি যে, যা কিছু প্রকাশ পাচ্ছে সে তারি আনন্দ, তবে মৃত্যুর পরে যে আরো-কিছু বিশেষ সুযোগ আছে, এ-কথা কল্পনা করবার কোনো হেতু দেখি নে । অনন্ত চিরদিনই সকল দেশে সকল কালে সকল অবস্থাতেই নিজেকে আমুদের কাছে প্রকাশ করবেন, এই তার আনন্দের লীলা। কিন্তু তার যে অস্ত নেই, এ-কথা তিনি আমাদের কেমন করে জানান ? নেতি নেতি করে জানান না, ইতি ইতি করেই জানান। অন্তহীন ইতি। সেই ইতিকে কোথাও সুস্পষ্ট উপলব্ধি করতে পারলেই এ কথা জানতে পারি, সর্বত্রই ইতি— সর্বত্রই সেই এষঃ । জীবনেও সেই এষঃ, জীবনের পরেও সেই এষঃ — কিন্তু তিনি নাকি অন্তহীন, সেইজন্যে তিনি কোথাও কোনোদিন পুরাতন নন,— চিরদিনই তাকে নূতন করেই জানব, নূতন করেই পাব, তাতে নূতন করেই আনন্দলাভ করতে থাকব । একেবারেই সমস্ত পাওয়াকে মিটিয়ে দিয়ে চিরকালের মতো একভাবেই যদি তাকে পেতুম, তা হলে অনন্তকে পাওয়া হত না । অন্য সমস্ত পাওয়াকে শেষ করে দিয়ে তবে তাকে পাব, এ কখনো হতেই পারে না। কিন্তু সমস্ত পাওয়ার মধ্যেই কেবল নব নবতর রূপে র্তাকেই পেতে থাকব, সেই অন্তহীন এককে অন্তহীন বিচিত্রের মধ্যে চিরকাল ভোগ করে চলব, এই যদি না হয় তবে দেশকালের কোনো অর্থই নেই,— তবে বিশ্বরচনা উন্মত্ত প্রলাপ এবং আমাদের জন্মমৃত্যুর প্রবাহ মায়ামরীচিকামাত্র। মাতৃ l আমি কোনো ইংরেজী বইয়ে পড়েছি যে, ঈশ্বরকে যে পিতা বলা হয়ে থাকে, সে একটা রূপকমাত্র। অর্থাৎ পৃথিবীতে পিতার সঙ্গে সন্তানের যে রক্ষণপালনের সম্বন্ধ, ঈশ্বরের সঙ্গে জীবের সেই সম্বন্ধ আছে বলেই এই সাদৃশ্ব অবলম্বনে তাকে পিতা বলা হয় । কিন্তু এ-কথা আমরা মানি নে । আমরা তাকে রূপকের ভাষায় পিতা বলি নে । আমরা বলি, পিতামাতার মধ্যে তিনিই সত্য পিতা মাতা। তিনিই আমাদের অনন্ত