পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (পঞ্চদশ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& 88 রবীন্দ্র-রচনাবলী হচ্ছে নিজের শক্তি সম্বন্ধে বৈরাগ্য, নিজের পরে দাবি যতদূর সম্ভব কমিয়ে দেওয়া । দাবি স্বীকার করায় দুঃখ আছে, বিপদ অাছে, অতএব— বৈরাগ্যমেবাভয়ং, অর্থাৎ বৈনাশুমেবাভয়ং। ஆ ...এখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এত অসম্ভব-রকম ব্যয় হয় যে সুদীর্ঘকাল লাগে তার আয়োজনে— ষম আপন কাজ সংক্ষেপে ও সস্তায় সারেন কিন্তু নিয়ম চলে অতি লম্বা ও দুর্মুল্য চালে। এখানে অতীতকালের অস্ত্যেষ্টিক্রিয় চলেছে বহুকাল ধ’রে, বর্তমানকালকে আপন সর্বস্ব দিতে হচ্ছে তার ব্যয় বহন করবার জন্তে । এখানে এসে বারবার আমার এই কথা মনে হয়েছে যে, অতীতকাল যত বড়ো কালই হ’ক নিজের সম্বন্ধে বর্তমান কালের একটা স্পর্ধা থাকা উচিত, মনে থাকা উচিত তার মধ্যে জয় করবার শক্তি আছে। এই ভাবটাকে আমি একটি ছোটো কবিতায় লিখেছি... —জাভাযাত্রীর পত্র। ৩০ অগস্ট ১৯২৭ “উত্তিষ্ঠত নিবোধত কবিতাটির ব্যাখ্যাস্বরূপ রবীন্দ্রনাথ শ্ৰীমতী রম দেবীকে बिभ्रমুদ্রিত পত্রটি ( ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪১ ) লিথিয়াছিলেন : যে-আশীর্বাদ তোমাকে পাঠালুম এখনি তার সম্পূর্ণ অর্থ বুঝতে পারবে না, তাতে ক্ষতি নেই, রইল তোমার কাছে । এর মধ্যে যে-কথাটি আছে সংক্ষেপে তার অর্থ এই, ঈশ্বরের কাছ থেকে দানরূপে পেয়েছি আমাদের এই জীবন, একে যদি হেলা করে নষ্ট না করি, নিজের চেষ্টায় একে যদি ভালো করতে পারি, সুন্দর করতে পারি, তা হলেই এই দান সার্থক হবে – নইলে এত বড়ো ঐশ্বর্য পেয়েও হারানো হবে। “উত্তিষ্ঠত নিবোধত এই মন্ত্রের অর্থ এই— ‘ওঠে, জাগো । জীবনকে সত্য করে তুলতে হলে সচেতন থেকে তার সাধনা করতে হয়। ‘প্রবাসী’ কবিতাটিকে ভাঙিয়া পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ স্বতন্ত্র দুটি গান রচনা করিয়াছিলেন ; প্রথম সংস্করণ গীতবিতানের তৃতীয় খণ্ডে ‘পরবাসী চলে এসো ঘরে’ ( পৃ. ৭৯০ ) এবং ‘এসো এসো প্রাণের উৎসবে’ ( જૂ. 88 ) গানদুটি দ্রষ্টব্য। ‘নূতন’ কবিতাটিরও একটি পরিবর্তিত সংগীতরূপ প্রথম সংস্করণ গীতবিতানে (পৃ. ৮৪৪ ) পাওয়া যায়। গানটির প্রথম ছত্র— ‘দূর রজনীর স্বপন লাগে । উল্লিখিত গানগুলি অধুনাপ্রচলিত গীতবিতানের বিভিন্ন অংশে পাওয়া যাইবে ।