পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৬৬ রবীন্দ্র-রচনাবলী নীরবালা । আচ্ছ মুখুজ্জেমশায়, এ দুটি কি রসিকদাদার রসিকতা না আমাদের সেজদিদিরই ফাড়া ? * অক্ষয় । বন্দুকের সকল গুলিই কি লক্ষ্যে গিয়ে লাগে। প্রজাপতি টার্গেট প্র্যাকটিস করছিলেন, এ দুটো ফসকে গেল। প্রথম প্রথম এমন গোটাকতক হয়েই থাকে। এই হতভাগ্য ধরা পড়বার পূর্বে তোমার দিদির ছিপে অনেক জলচর ঠোকর দিয়ে গিয়েছিল, বড়শি বিধল কেবল আমারই কপালে । কপালে চপেটাঘাত নৃপবালা । এখন থেকে রোজই প্রজাপতির প্র্যাকটিস চলবে নাকি মুখুজ্জেমশায়। তা হলে তো আর বঁাচা যায় না । নীরবালা । কেন ভাই, দুঃখ করিস। রোজই কি ফসকাবে। একটা না একটা এসে ঠিক-মতন পৌছবে । ایتخ রসিকের প্রবেশ নীরবাল রসিকদাদা, এবার থেকে আমরাও তোমার জন্যে পাত্রী জোটাচ্ছি। রসিক। সে তো সুখের বিষয় । নীরবালা । হা । মুখ দেখিয়ে দেব। তুমি থাক হোগলার ঘরে, আর পরের দালানে আগুন লাগাতে চাও ? আমাদের হাতে টিকে নেই ? আমাদের সঙ্গে যদি লাগ তাহলে তোমার দু-দুটাে বিয়ে দিয়ে দেব ; মাথায় যে-কটি চুল আছে সামলাতে পারবে না । রসিক। দেখ দিদি, দুটাে আস্ত জন্তু এনেছিলুম বলেই তো রক্ষে পেলি, যদি মধ্যম রকমের হত তা হলেই তো বিপদ ঘটত। যাকে জন্তু বলে চেনা যায় না সেই জন্তুই ভয়ানক । অক্ষয় । সে কথা ঠিক । মনে মনে আমার ভয় ছিল, কিন্তু একটু পিঠে হাত বুলোবামাত্রই চটুপটু শব্দে লেজ নড়ে উঠল। কিন্তু, মা বলছেন কী । রসিক । সে যা বলছেন সে অার পাচজনকে ডেকে ডেকে শোনাবার মতো নয় । সে আমি অস্তরের মধ্যেই রেখে দিলুম। যা হোক, শেষে এই স্থির হয়েছে, তিনি কাশীতে তার বোনপোর কাছে যাবেন, সেখানে পাত্রেরও সন্ধান পেয়েছেন, তীর্থদর্শনও হবে । নীরবাল। বল কী রসিকদাদা। তা হলে এখানে আমাদের রোজ রোজ নতুন নতুন নমুনো দেখা বন্ধ ? নৃপবালা । তোর এখনও শখ আছে নাকি ।