পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা Sbلاً س শ্ৰীশ । ভাগ্নি ? সর্বনাশ ! এইখানেই থাকেন ? বিপিন । সন্দেহমাত্র নেই। সভাপতিমশায় নিজে নীরোগ, কিন্তু রোগের ছোয়াচ নিয়ে ফেরেন। শ্ৰীশ। কিন্তু ভাগ্লেজামাই বলে বালাই নেই বুঝি ? বিপিন। সে বালাইটি অপরিণীত আকারে চিরকুমার-সভায় ঢুকে পড়েছে। পূর্ণ পরিণত আকারে যখন বেরিয়ে পড়বে তখন প্রজাপতি কুমার-সভার গুটি বিদীর্ণ করে দেবেন | শ্ৰীশ। তিনি তবে কুমারী ? বিপিন। কুমারী বৈকি। কুমার-সভার মহামারী। এই ঘটনার ঠিক পরেই পূর্ণ হঠাৎ আমাদের কুমার-সভায় নাম লিখিয়েছে। শ্ৰীশ। পূজারি সেজে ঠাকুর চুরি করবার মংলব। আমাকেও তো ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করতে হবে । বিপিন । নারীতত্ত্বের গবেষণা স্বাস্থ্যকর না হতে পারে। শ্ৰীশ । তোমার স্বাস্থ্যের যদি ব্যাঘাত না হয়ে থাকে তা হলে আমারও— বিপিন। আরম্ভেতে রোগের প্রবেশ ধরা পড়ে না । কিন্তু, কুমারের মার যখন ভিতর থেকে ফুটে উঠবে তখন অশ্বিনীকুমারেরও সাধ্য নেই রক্ষা করে। গোড়ায় সাবধান হওয়া ভালো । একটি প্রৌঢ় ব্যক্তির প্রবেশ বিপিন। কী মশায়, আপনি কে । প্রৌঢ় ব্যক্তি। আজ্ঞে, আমার নাম শ্ৰীবনমালী ভট্টাচার্য, ঠাকুরের নাম ভরামকমল ন্যায়চষ্ণু, নিবাস– শ্ৰীশ । আর অধিক আমাদের ঔৎসুক্য নেই। এখন কী কাজে এসেছেন সেইটে— বনমালী। কাজ কিছুই নয়। আপনারা ভদ্রলোক, আপনাদের সঙ্গে আলাপপরিচয়— শ্রীশ । কাজ আপনার না থাকে আমাদের আছে। এখন, অন্য কোনো ভদ্রলোকের সঙ্গে যদি আলাপ-পরিচয় করতে যান তা হলে আমাদের একটু— বনমালী। তবে কাজের কথাটা সেরে নিই। ঐশ । সেই ভালো ।