পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী غ لانها পিতৃদত্ত মৃত্যুর চেয়ে এই জীবনকে বেশি প্রিয় জ্ঞান করিস না। তবে যদি প্রতিশোধ তুলিতে পারিস তবেই জীবনের অর্থ থাকে। | আমিন চুপ করিয়া দূরে চাহিয়া রহিল। কিন্তু বেশ বুঝা গেল, সকল কথা সত্বেও বাহিরের এই বাতাস এবং গাছের ছায়া এবং আপনার নবযৌবন এবং কী-একটা মুখস্মৃতি তাহাকে নিমগ্ন করিয়া রাখিয়াছিল। কিছুক্ষণ পরে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, দিদি, তুমি একটু অপেক্ষ করে। ভাই। আমার ঘরের কাজ বাকি আছে। আমি না রণধিয়া দিলে বুঢ়া থাইতে পাইবে না ? তৃতীয় পরিচ্ছেদ জুলিখা আমিনার অবস্থা চিন্তা করিয়া ভারী বিমৰ্ষ হইয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। এমন সময় হঠাৎ ধুপ, করিয়া একটা লম্ফের শব্দ হইল এবং পশ্চাৎ হইতে কে একজন জুলিখার চোখ টিপিয়া ধরিল। জুলিখা ত্ৰস্ত হইয়া কহিল, কেও ' স্বর শুনিয়া যুবক চোখ ছাড়িয়া দিয়া সম্মুখে আসিয়া দাড়াইল; জুলিখার মুখের দিকে চাহিয়া অমানবদনে কহিল, ‘তুমি তো তিন্নি নও। যেন জুলিখা বরাবর আপনাকে তিন্নি’ বলিয়া চালাইবার চেষ্টা করিতেছিল, কেবল যুবকের অসামান্য তীক্ষুবুদ্ধির কাছে সমস্ত চাতুরী প্রকাশ হইয়া পড়িয়াছে। জুলিখা বসন সম্বরণ করিয়া দৃপ্তভাবে উঠিয়া দাড়াইয়া দুই চক্ষে অগ্নিবাণ নিক্ষেপ করিল। জিজ্ঞাসা করিল, কে তুমি ? যুবক কহিল, ‘তুমি আমাকে চেন না। তিন্নি জানে। তিন্নি কোথায় । তিন্নি গোলযোগ শুনিয়া বাহির হইয়া আসিল । জুলিখার রোষ এবং যুবকের হতবুদ্ধি বিস্মিতমুখ দেখিয়া আমিনা উচ্চৈঃস্বরে হাসিয়া উঠিল। । কহিল, ‘দিদি, ওর কথা তুমি কিছু মনে করিয়ো না। ও কি মানুষ, ও একটা বনের মুগ । যদি কিছু বেয়াদপি করিয়া থাকে আমি উহাকে শাসন করিয়া দিব – দালিয়া, তুমি কী করিয়াছিলে। যুবক তৎক্ষণাং কহিল, ‘চোখ টিপিয়া ধরিয়াছিলাম। আমি মনে করিয়াছিলাম তিন্নি। কিন্তু ও তো তিন্নি নয়।’ তিনি সহসা দুঃসহ ক্রোধ প্রকাশ করিয়া উঠিয়া কহিল, ফের ! ছোটো মুখে বড়ো কথা। কবে তুমি তিমির চোখ টিপিয়াছ। তোমার তো সাহস কম নয়।’