পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లి রবীন্দ্র-রচনাবলী বিপুল ইতিহাসের দুর্গম দুরত্যয় পথে মানবাত্মার এই-যে বিজয়রথ অহোরাত্র পৃথিবীকে কম্পান্বিত করে চলেছে তুমি কি অসাড় হয়ে চোখ বুজে বলতে চাও তার কেউ সারথি নেই ? তাকে কেউ কোনো মহৎ সার্থকতার দিকে চালনা করে নিয়ে যাচ্ছে না ? এইখানেই, এই মহৎ সুখদুঃখ বিপংসম্পদের পথেই কি রথীর সঙ্গে সারথির যথার্থ মিলন ঘটছে না ? রথ চলেছে, শ্রাবণের অমারাত্রির দুর্যোগও সেই সারথির অনিমেষ নেত্রকে আচ্ছন্ন করতে পারছে না, মধ্যাহ্নস্থর্যের প্রখর আলোকেও তার ধ্রুবদূষ্টি প্রতিহত হচ্ছে না ; আলোকে অন্ধকারে চলেছে রথ, আলোকে অন্ধকারে মিলন রথীর সঙ্গে সেই সারথির— চলতে চলতে মিলন, পথের মধ্যে মিলন, উঠবার সময় মিলন, নামবার সময় মিলন, রথীর সঙ্গে সারথির । ওরে, কে সেই নিত্য মিলনকে অগ্রাহ করতে চায় ! তিনি যেখানে চালাতে চান কে সেখানে চলতে চায় না ! কে বলতে চায় আমি মানুষের ইতিহাসের ক্ষেত্র থেকে স্বদুরে পালিয়ে গিয়ে নিক্রিয়তার মধ্যে, নিশ্চেষ্টতার মধ্যে একলা পড়ে থেকে তার সঙ্গে মিলব। কে বলতে চায় এই-সমস্তই মিথ্যা— এই বৃহৎ সংসার, এই নিত্যবিকাশমান মানুষের সভ্যতা, অন্তর-বাহিরের সমস্ত বাধাকে ভেদ করে আপনার সকল প্রকার শক্তিকে জয়যুক্ত করবার জন্যে মানুষের এই চিরদিনের চেষ্টা, এই পরমদুঃখের এবং পরমসুখের সাধনা। যে লোক এ-সমস্তকেই মিথ্যা বলে কত বড়ে মিথ্যা তার চিত্তকে আক্রমণ করেছে! এত বড়ে বৃহৎ সংসারকে এত বড়ো ফাকি বলে যে মনে করে সে কি সত্যস্বরূপ ঈশ্বরকে সত্যই বিশ্বাস করে ! যে মনে করে পালিয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় সে কবে তাকে পাবে, কোথায় তাকে পাবে, পালিয়ে কত দূরে সে যাবে, পালাতে পালাতে একেবারে শূন্যতার মধ্যে গিয়ে পৌছবে এমন সাধ্য তার আছে কি ! তা নয়— ভীরু যে, পালাতে যে চায়, সে কোথাও তাকে পায় না। সাহস করে বলতে হবে এই-যে তাকে পাচ্ছি, এই-যে এখনই, এই-যে এখানেই। বারবার বলতে হবে আমার প্রত্যেক কর্মের মধ্যে আমি যেমন আপনাকে পাচ্ছি তেমনি আমার আপনার মধ্যে যিনি আপনি তাকে পাচ্ছি। কর্মের মধ্যে আমার যা-কিছু বাধা, যা-কিছু বেস্থর, যা-কিছু জড়ত, যা-কিছু অব্যবস্থা, সমস্তকেই আমার শক্তির দ্বারা সাধনার দ্বারা দূর করে দিয়ে এই কথাটি অসংকোচে বলবার অধিকারটি আমাদের লাভ করতে হবে যে, কর্মে আমার আনন্দ, সেই আনন্দেই আমার আনন্দময় বিরাজ করছেন। উপনিষদে ‘ব্রহ্মবিদাং বরিষ্ঠঃ ব্রহ্মবিংদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কাকে বলেছেন ? আত্মক্রীড় আত্মরতি ক্রিয়াবান এষ ব্রহ্মবিদাং বরিষ্ঠ । পরমাত্মায় র্যার আনন্দ, পরমাত্মায় র্যার ক্রীড়া এবং যিনি ক্রিয়াবান তিনিই ব্রহ্মবিংদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আনন্দ আছে অথচ