পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাস্তিনিকেতন ՏՏՏ তিনি বলছেন, তোমার দীনতম জীবটিকেও তোমার প্রয়োজন আছে ; সে যে একদিন তোমাতেই ছিল, আবার তুমি তাকে তোমারই করে নিতে চাও ; আমার চিত্তকে যে তৃষায় দগ্ধ করছে সে যে তোমারই তৃষা, আমার জন্যে তোমার হৃদয়ের তৃষা । পশ্চিম হিন্দুস্থানের পুরাকালের এক সাধক কবি, তার নাম জ্ঞানদাস বঘৈলি— তিনিও ঠিক এই কথাই বলেছেন। আমার এক বন্ধু তার বাংলা অনুবাদ করেছেন— অসীম ক্ষুধায় অসীম তৃষায় বহ প্ৰভু অসীম ভাষায়, তাই দীননাথ, আমি ক্ষুধিত, আমি তৃষিত, তাই তো আমি দীন। আমার জন্যে র্তারই যে তৃষা তাই তার জন্যে আমার তৃষার মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে । র্তার অসীম তৃষাকে তিনি অসীম ভাষায় প্রকাশ করছেন। সেই ভাষাই তো উষার আলোকে, নিশীথের নক্ষত্রে, বসন্তের সৌরভে, শরতের স্বর্ণকিরণে জগতে এই ভাষার তো আর কোনোই কাজ নেই, সে তো কেবলই হৃদয়ের প্রতি হৃদয়মহাসমুদ্রের ডাক । সে কবি বলরাম দাসের ভাষায় বলছে ; তোমায় হিয়ার ভিতর হৈতে কে কৈল বাহির । তুমি আমার হৃদয়ের ভিতরেই ছিলে, কিন্তু বিচ্ছেদ হয়েছে ; সেই বিচ্ছেদ মিটিয়ে আবার ফিরে এসো, সমস্ত দুঃখের পথটা মাড়িয়ে আবার অামাতে ফিরে এসো, হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের মিলন সম্পূর্ণ হোক – এই একটি বিরহবেদন অনস্তের মধ্যে রয়েছে, সেই জন্যেই আমার মধ্যেও আছে । I have come from thee, why I know not ; but thou art, O God I what thou art ; And the round of eternal being is the pulse of thy beating heart. আমি তোমার মধ্য থেকে এসেছি কেন যে তা জানি নে, কিন্তু হে ঈশ্বর, তুমি যেমন তেমনিই আছ ; এই যে একবার তোমা থেকে বেরিয়ে আবার যুগযুগাস্তের মধ্য দিয়ে তোমাতেই ফিরে আসা এই হচ্ছে তোমার অসীম হৃদয়ের এক-একটি হৃৎস্পন্দন । অনন্তের মধ্যে এই যে বিরহবেদনা সমস্ত বিশ্বকাব্যকে রচনা করে তুলছে, কবি জ্ঞানদাস র্তার ভগবানকে বলছেন, এই বেদনা তোমাতে আমাতে ভাগ করে ভোগ