পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१२ রবীন্দ্র-রচনাবলী লক্ষ্মীছাড়াটা জবাব করলে, ‘ও কেন দিল না ? যেন চুরির আসল দায় পাকড়াশিদের ছেলের । ভয় নেই ঘৃণা নেই ওর দেহটাতে । কোলাব্যাঙ তুলে ধরে খপ করে, বাগানে আছে খোটা পোতার এক গর্ত, তার মধ্যে সেটা পোষে— পোকামাকড় দেয় খেতে । গুবরে পোকা কাগজের বাক্সোয় এনে রাখে, খেতে দেয় গোবরের গুটি— কেউ ফেলে দিতে গেলে অনর্থ বাধে । ইস্কুলে যায় পকেটে নিয়ে কাঠবিড়ালি । একদিন একটা হেলে সাপ রাখলে মাস্টারের ডেস্কে— ভাবলে, “দেখিই-না কী করে মাস্টারমশায়।’ ডেকৃসে খুলেই ভদ্রলোক লাফিয়ে উঠে দিলেন দৌড়— দেখবার মতো দৌড়ট । একটা কুকুর ছিল ওর পোষা, কুলীনজাতের নয়, একেবারে বঙ্গজ । চেহারা প্রায় মনিবেরই মতে, ব্যবহারটাও । অন্ন জুটত না সব সময়ে, গতি ছিল না চুরি ছাড়া— সেই অপকর্মের মুখে তার চতুর্থ পা হয়েছিল খোড়। আর, সেই সঙ্গেই কোন কার্যকারণের যোগে শাসনকর্তাদের শসাখেতের বেড়া গিয়েছিল ভেঙে ৷ মনিবের বিছানা ছাড়া কুকুরটার ঘুম হত না রাতে, তাকে নইলে মনিবেরও সেই দশা ।