পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


4*२ রবীন্দ্র-রচনাবলী তার চালচিত্র খাড়া না করলে মানানসই হয় না। কিন্তু, এমন মেয়ে দেখা যায় বার সহজ চলনের মধ্যেই বিনা ছন্সের ছন্দ আছে। কবিরা সেই অনায়াসের চলন দেখেই নানা উপমা খুজে বেড়ায়। সে মেয়ের চলনটাই কাব্য, তাতে নাচের তাল নাই বা লাগল ; তার সঙ্গে মৃদঙ্গের বোল দিতে গেলে বিপত্তি ঘটবে। তখন মৃদঙ্গকে দোষ দেব না তার চলনকে ? সেই চলন নদীর ঘাট থেকে আরম্ভ করে রান্নাঘর বাসরঘর পর্যন্ত । তার জন্যে মাল-মসলা বাছাই করে বিশেষ ঠাট বানাতে হয় না। গদ্যকাব্যেরও এই দশা। সে নাচে না, সে চলে। সে সহজে চলে বলেই তার গতি সর্বত্র। সেই গতিভঙ্গী আবাধা। ভিড়ের ছোওয়া বাচিয়ে পোশাকি-শাড়ির-প্রান্ত-তুলে-ধরা আধ-ঘোমটা-টানা ' সাবধান চাল তার নয় । r এই গেল আমার পুনশ্চ কাব্যগ্রন্থের কৈফিয়ত । আরো-একটা পুনশ্চ-নাচের আসরে নাট্যাচার্য হয়ে বসব না এমন পণ করি নি। কেবলমাত্র কাব্যের অধিকারকে বাড়াব মনে করেই একটা দিকের বেড়ায় গেট বসিয়েছি। এবারকার মতো আমার কাজ ওই পর্যন্ত। সময় তো বেশি নেই। এর পরে আবার কোন খেয়াল আসবে বলতে পারি নে। যারা দৈবন্ধুর্যোগে মনে করবেন গদ্যে কাব্যরচনা সহজ তারা এই খোলা দরজাটার কাছে ভিড় করবেন সন্দেহ নেই। তা নিয়ে ফৌজদারি বাধলে আমাকে স্বদলের লোক বলে স্বপক্ষে সাক্ষী মেনে বসবেন। সেই দুদিনের পূর্বেই নিরুদ্দেশ হওয়া ভালো। এর পরে মরিচিত আরো একখানা কাব্যগ্রন্থ বেরবে, তার নাম বিচিত্রিতা। সেটা দেখে ভদ্রলোকে এই মনে করে আশ্বস্ত হবে যে আমি পুনশ্চ প্রকৃতিস্থ হয়েছি।. খড়দহ, দেওয়ালি, ১৩৩৯ —পরিচয় । বৈশাখ ১৩৪০ বাসা’ (১৯ অগস্ট ১৯৩২) কবিতা রচনার দুই বৎসর পূর্বে কবি বর্লিন হইতে শ্ৰীমতী প্রতিমা দেবীকে একথানি চিঠি লেখেন। এই চিঠিখানি উক্ত কবিতার প্রাথমিক খসড়া বলা যাইতে পারে— এখানকার ন্যাশন্যাল গ্যালারিতে আমার পাচখানা ছবি নিয়েছে, শুনেছ । তার মানে, তারা পৌচেছে ছবির অমরাবতীতে। ওরা দামের জন্তে ভাবছিল; টাকা নেই, কী করবে। আমি লিখে দিয়েছি যে, আমি জর্মানিকে দান করলুম, দাম চাই নে। ভারি খুশি হয়েছে। আরো অনেক জায়গা থেকে একৃজিবিশনের জন্যে আবেদন আসছে। একটা এসেছে স্পেন থেকে, তারা চায় নবেম্বরে। ভিয়েনা চায় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি যে পোটো সেই নামটাই ছড়িয়ে পড়ছে কবি নামকে ছাপিয়ে । থেকে-থেকে মনে আসছে তোমার সেই স্ট ডিয়োর কথাটা । ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে,