পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী অল্পজল নদী পায়ে হেঁটে , পেরিয়ে যায় ও পারে, সেখানে সিমুগাছের তলায় বই পড়ে । আর আমাকে সে যে চিনেছে să তা জানলেম আমাকে লক্ষ্য করে না বলেই । একদিন দেখি, নদীর ধারে বালির উপর চড়িভাতি করছে এর । ইচ্ছে হল গিয়ে বলি, আমাকে দরকার কি নেই কিছুতেই । আমি পারি জল তুলে আনতে নদী থেকে— পারি বন থেকে কাঠ আনতে কেটে, আর, তা ছাড়া কাছাকাছি জঙ্গলের মধ্যে একটা ভদ্রগোছের ভালুকও কি মেলে না। দেখলেম দলের মধ্যে একজন যুবক— শর্ট-পবা, গায়ে রেশমের বিলিতি জাম, হাভানা চুরোট খাচ্ছে। l আর, কমলা অন্যমনে টুকরো টুকরো করছে একটা শ্বেতজবার পাপড়ি, পাশে পড়ে আে বিলিতি মাসিক পত্র। মুহূর্তে বুঝলেম এই সাওতাল পরগনার নির্জন কোণে আমি অসহ অতিরিক্ত, ধরবে না কোথাও । তখনি চলে যেতেম, কিন্তু বাকি আছে একটি কাজ । আর দিন-কয়েকেই ক্যামেলিয়া ফুটবে, পাঠিয়ে দিয়ে তবে ছুটি । * সমস্ত দিন বন্দুক ঘাড়ে শিকারে ফিরি বনে জঙ্গলে, সন্ধ্যার আগে ফিরে এসে টবে দিই জল । আর দেখি কুঁড়ি এগোল কত দূর । ।