পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাহিনী । ১৭ পরিবার তায় সাথে যেতে চায় ! বুঝায়ে বলিহু তারে পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য, নহিলে খরচ বাড়ে। লয়ে রশারশি করি কষাকষি পোটলাপুটলি বাধি বলয় বাজায়ে বাক্স সাজায়ে গৃহিণী কহিল কাদি, ‘পরদেশে গিয়ে কেষ্টারে নিয়ে কষ্ট অনেক পাবে।’ আমি কহিলাম ‘অারে রাম রাম ! নিবারণ সাথে যাবে।’ রেলগাড়ি ধায় ; হেরিলাম হয় নামিয়া বর্ধমানে কৃষ্ণকান্ত অতি প্রশান্ত তামাক সাজিয়া আনে। স্পর্ধা তাহার হেনমতে আর কত বা সহিব নিত্য ! যত তারে দুষি তবু হতু খুশি হেরি পুরাতন ভৃত্য । নামিল্ল শ্ৰীধামে, দক্ষিণে বামে পিছনে সমুখে যত লাগিল পাণ্ডা, নিমেষে প্রাণটা করিল কণ্ঠাগত । জন ছয় সাতে মিলি একসাথে পরম বন্ধুভাবে করিলাম বাসা, মনে হল অাশা আরামে দিবস যাবে। কোথা ব্রজবালা ! কোথা বনমালা ! কোথা বনমালী হরি! কোথা হা হস্ত, চিরবসস্ত ! আমি বসন্তে মরি। বন্ধু যে যত স্বপ্নের মতে বাসা ছেড়ে দিল ভঙ্গ— আমি এক ঘরে, ব্যাধি-থরশরে ভরিল সকল অঙ্গ । ডাকি নিশিদিন সকরুণ ক্ষীণ, কেষ্ট, আয় রে কাছে । এত দিনে শেষে আসিয়া বিদেশে প্রাণ বুঝি নাহি বাচে! হেরি তার মুখ ভরে ওঠে বুক, সে যেন পরম বিত্ত— নিশিদিন ধরে দাড়ায়ে শিয়রে মোর পুরাতন ভূত্য । মুখে দেয় জল, শুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত ; দাড়ায়ে নিঝুম, চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত । বলে বার বার, ‘কর্তা, তোমার কোনো ভয় নাই, শুন, যাবে দেশে ফিরে, মা-ঠাকুরানীরে দেখিতে পাইবে পুন।’ । লভিয়া আরাম আমি উঠিলাম ; তাহারে ধরিল জরে— নিল সে আমার কালব্যাধিভার আপনার দেহ-’পরে।