পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭૬ 参 ब्रवैौठझ-ब्रक्रमांयलौ ভক্তির ধার ধারে না, স্বয়ং মা গঙ্গাকে দেখতে এলে পুরো ভিজিট আদায় করে ছাড়ে। সেও সহ হয়, কিন্তু খিড়কির ধারে ওই-যে দেশ-বিদেশের মড়া পুড়তে আরম্ভ হয়েছে ওইটেতে আমাকে কিছু কাবু করেছে। অহৰ্নিশি চিতা জলছে। কাছাকাছি যে-সমস্ত বসতি ছিল সে-সমস্তই উঠে গেছে ; রাত্তিরে যখন হরিবোল হরিবোল শব্দ ওঠে এবং শেয়ালগুলো ডাকতে থাকে তখন রক্ত শুকিয়ে যায়। স্ত্রী তো বাপের বাড়ি চলে গেছেন। বাড়িতে চাকর-দাসী টিকতে পারে না । ভূতের ভয়ে দিনে দুপুরে দাত-কপাটি খেয়ে খেয়ে পড়ে। চারটি রোধে দেয় এমন লোক পাই নে। রাত্তিরে নিজের পায়ের শব্দ শুনলে বুকের মধ্যে দুড় দুড় করতে থাকে ; বাড়িতে জনমানব নেই ; গঙ্গাযাত্রীর ঘর থেকে কেবল থেকে থেকে তারক-ব্রহ্ম নাম শুনি, আর গা ছমছম করতে থাকে। আবার হয়েছে কী ; ছেড়েও যেতে পারি নে। আমার ভগীরথ নাম চতুর্দিকেই রাষ্ট্র হয়ে গেছে ; সকলেরই দর্শন করতে ইচ্ছা হয়— সেদিন পশ্চিম থেকে দু-জন এসেছিল, তাদের কথাই বুঝতে পারি নে। বেটারা ভক্তি করলে বটে, কিন্তু আমার থালাবাটিগুলো চুরিও করে গেছে। এখান থেকে উঠে গেলে হয়তো ঠিকানা না পেয়ে অনেকে ফিরে যেতে পারে। এ দিকে আবার বিষয়কর্ম দেখতে সময় পাচ্ছি নে ; আমার পত্তনি তালুকটার খাজনা বাকি পড়েছে, শুনেছি জমিদার অষ্টম করবে। শরীর ভয়ে অনিয়মে এবং ব্যামোয় রোজ শুকিয়ে যাচ্ছে । ডাক্তারে ভয় দেখাচ্ছে এ জায়গা না ছাড়লে আমি আর বেশিদিন বঁাচব না। কী করি বলে। তো দাদা ? রুদদুর বক্শি ছিলুম, সুখে ছিলুম, কোনো ল্যাঠাই ছিল না ; ভগীরথ হয়ে কোনো দিক সামলে উঠতে পারছি নে, আমার সোনার পুরী একেবারে শ্মশান হয়ে গেছে ! আবার কাগজগুলো আজকাল আমার সঙ্গে লেগেছে ; তার বলে সব মিথ্যে। তাদের নামে লাইবেল আনবার জন্তে উকিলের পরামর্শ নিতে গিয়েছিলুম ; উকিল বললে, তুমিই যে ভগীরথ সেটা প্রমাণ করতে গেলে সত্যযুগ থেকে সাক্ষী তলব করতে হয়, স্বয়ং ব্যাসদেবের নামে সমন জারি করতে হয়। শুনে আমার ভরসা হল না। এখানকার লোকের মনেও ক্রমে সন্দেহ জন্মে গেছে । মতি গয়লানীর সঙ্গে এক-রকম ঠিক হয়েছিল আমি পাদোদক দেব আর সে দুধ দেবে, আজ দু দিন থেকে সে মাগী আবার তার হিসেব নিয়ে এসে উপস্থিত হয়েছে ; ভাবে গতিকে স্পষ্ট বুঝতে পারছি টাকার বদলে আমি তাকে পায়ের ধুলো দিতে গেলে সেও আমার উপরে পায়ের ধুলো ঝেড়ে যাবে। ভয়ে কিছু বলতে পারছি নে। পুকুরটা তো গেছেই, আমার স্ত্রী-পুত্র-কন্যারাও ছেড়ে গেছে, চাকর-দাসীও পালিয়েছে, প্রতিবেশীরাও গ্রাম ছেড়ে