পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


७é३ রবীক্স-রচনাবলী (বৃহস্পতির প্রতি ) আচ্ছ, পণ্ডিতমশায়, ওই-যে সামবেদের গান হচ্ছে, আপনার তো বসে বসে মুগ্ধ হয়ে শুনছেন, কিন্তু কোন সময়ে ওর প্রথম রচনা হয় তার কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পেরেছেন কি ? কী বললেন ? স্বর্গে আপনাদের ইতিহাস নেই ? আপনাদের সমস্তই নিত্য ? সুখের বিষয় ! স্বরবালকদের তারিখ মুখস্থ করতে হয় না ! কিন্তু, বিস্তাচৰ্চা ওতে করে কি অনেকটা অসম্পূর্ণ থাকে না ? ইতিহাসশিক্ষার উপযোগিতা চার প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা যেতে পারে।— প্রথম, ক— মনোযোগ দিচ্ছেন কি ?– (স্বগত) গান শুনতেই মত্ত, তার আর মন দেবে কী করে ? পৃথিবী ছেড়ে অবধি এদের কাউকে যদি একটা কথা শোনাতে পেরে থাকি ! শুনছে কি না শুনছে মুখ দেখে কিছু বোঝবার জো নেই ; একটা কথা বললে কেউ তার প্রতিবাদও করে না, এবং কারো কথার কোনো প্রতিবাদ করলে তার একটা জবাব পাওয়াই যায় না। শুনেছি এইখানেই আমাকে সাড়ে পাচ কোটি সাড়ে পনেরো লক্ষ বৎসর কাটাতে হবে। তা হলেই তো গেছি। আত্মহত্যা করে যে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে সে স্থবিধাও নেই। এখানকার সাপ্তাহিক মৃত্যুতালিকা অন্বেষণ করতে গিয়ে শুনলুম, এখানে মৃত্যু নেই। অশ্বিনীকুমার-নামক দুই বৈদ্য যে পদটি পেয়েছেন ওঁদের যদি বাধা খোরাক বরাদ না থাকত তা হলে সমস্ত স্বর্গ বোটিয়ে এক পয়সা ভিজিট জুটত না। তবে কী করতে যে ওঁরা এখানে আছেন তা আমাদের মানুষের বুদ্ধিতে বুঝতে পারি নে। কাউকে তো খরচের হিসাব দিতে হয় না, যার যা খুশি তাই হচ্ছে। থাকত একটা মুনিসিপ্যালিটি, এবং নিয়মমতে কাজ হ’ত, তা হলে আমি তো সর্বাগ্রে ওই দুটি হেলথ-অফিসারের পদ উঠিয়ে দেবার জন্যে লড়তুম। এই-যে রোজ সভার মধ্যে অমৃত ছড়াছড়ি যাচ্ছে, তার একটা হিসেব কোথাও আছে ? সেদিন তো শচীঠাকরুনকে স্পষ্টই মুখের উপর জিজ্ঞাসা করলুম, স্বর্গের সমস্ত ভাড়ার তো আপনার জিন্মায় আছে ; পাকা খাতায় হোক, খসড়ায় হোক, তার কোনো একটা হিসেব রাখেন কি— হাতচিঠা কি রসিদ, কি কোনো রকমের একটা নিদর্শন রাখা হয় ? শচীঠাকরুন বোধ করি মনে মনে রাগ করলেন ; স্বর্গ স্বষ্টি হয়ে অবধি এরকম প্রশ্ন তাকে কেউ জিজ্ঞাস করে নি। যা পাব্লিকের জিনিস তার একটা রীতিমত জবাবদিহি থাকা চাই, সে বোধটা এদের কারো দেখতে পাই নে। অজস্র আছে বলেই কি অজস্র খরচ করতে হবে। যদি অামাকে বেশি দিন এখানে থাকতেই হয় তা হলে স্বর্গের সমস্ত বন্দোবস্ত আগাগোড়া রিফর্ম, না করে আমি নড়ছি নে। আমি দেখছি, গোড়ায় দরকার আজিটেশন—