পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী * ט\ צ8 ভেবে মরে মোর মন । কোন স্বরে আজ বাধিবে যন্ত্র, কী মন্ত্র হবে গাওয়া ! এবারে আর দেখতে পাই নি বলবার জো নেই। প্রথম বালক। কই ঠাকুর, দেখিয়ে দাও-না ! সন্ন্যাসী। ওই-যে সাদা মেঘ ভেসে আসছে। দ্বিতীয় বালক । স্থা হা, ভেসে আসছে। তৃতীয় বালক । ই, আমিও দেখেছি। সন্ন্যাসী । ওই-যে আকাশ ভরে গেল ! প্রথম বালক । কিসে ? সন্ন্যাসী । কিসে ! এই তো স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে আলোতে, আনন্দে । বাতাসে শিশিরের পরশ পাচ্ছ না ? দ্বিতীয় বালক ৷ হুঁ, পাচ্ছি। সন্ন্যাসী। তবে আর-কি! চক্ষু সার্থক হয়েছে, শরীর পবিত্র হয়েছে, মন প্রশান্ত হয়েছে! এসেছেন, এসেছেন, আমাদের মাঝখানেই এসেছেন ! দেখছ না বেতসিনী নদীর ভাবটা । আর, ধানের থেত কী রকম চঞ্চল হয়ে উঠেছে ! গাও গাও, ঠাকুর্দা, বরণের গানটা গাও ! 鑫 ঠাকুরদাদা । গান আলেয় । একতাল। আমার নয়ন-ভুলানো এলে ! আমি কী হেরিলাম হৃদয় মেলে । সন্ন্যাসী । যাও বাবা, তোমরা সমস্ত বনে বনে নদীর ধারে ধারে গেয়ে এসে গে। [ ছেলেদের গাহিতে গাহিতে প্রস্থান ঠাকুরদাদা। প্রভু, আমি যে একেবারে ডুবে গিয়েছি। ডুবে গিয়ে তোমার এই পায়ের তলাটিতে এসে ঠেকেছি। এখান থেকে আর নড়তে পারব না । লক্ষেশ্বরের প্রবেশ ঠাকুরদাদা। এ কী হল ! লখা গেরুয়া ধরেছে যে ! লক্ষেশ্বর ৷ সন্ন্যাসীঠাকুর, এবার আর কথা নেই। আমি তোমারই চেলা । এই নাও আমার গজমোতির কোঁটাে ; এই আমার মণিমাণিক্যের পেটিকা তোমারই কাছে রইল। দেখো ঠাকুর, সাবধানে রেখো।