পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8૭8 রবীন্দ্র-রচনাবলী 飘 ভক্তি করাটা তার মতে একটা বুটা সংস্কার ; ইহাতে মাহুষের মনকে গোলামিতে পাকা । করিয়া দেয়। বাড়ির কোনে-এক নূতন জামাই তাকে ‘শ্রীচরণেষু পাঠ দিয়া চিঠি লিখিয়াছিল। তাহাকে তিনি নিম্নলিখিত প্রণালীতে উপদেশ দিয়াছিলেন : মাইডিয়ার নরেন, চরণকে ঐ বলিলে যে কী বলা হয় তা আমিও জানি না, তুমিও জান না, অতএব ওটা বাজে কথা ; তার পরে, আমাকে একেবারে বাদ দিয়া আমার চরণে তুমি কিছু নিবেদন করিয়াছ, তোমার জানা উচিত আমার চরণটা আমারই এক অংশ, যতক্ষণ ওটা আমার সঙ্গে লাগিয়া আছে ততক্ষণ উহাকে তফাত করিয়া দেখা উচিত না ; তার পরে, ওই অংশটা হাতও নয়, কানও নয়, ওখানে কিছু নিবেদন করা পাগলামি ; তার পরে শেষ কথা এই যে, আমার চরণসম্বন্ধে বহুবচন প্রয়োগ করিলে ভক্তিপ্রকাশ করা হইতে পারে, কারণ কোনো কোনো চতুষ্পদ তোমাদের ভক্তিভাজন, কিন্তু ইহাতে আমার প্রাণিতত্ত্বঘটিত পরিচয় -সম্বন্ধে তোমার অজ্ঞতা সংশোধন করিয়া দেওয়া আমি উচিত মনে করি । এমন সকল বিষয়ে শচীশের সঙ্গে জগমোহন আলোচনা করিতেন যাহা লোকে সচরাচর চাপা দিয়া থাকে। এই লইয়া কেহ আপত্তি করিলে তিনি বলিতেন, বোলতার বাসা ভাঙিয়া দিলেই তবে বোলত তাড়ানো যায়, তেমনি এ-সব কথায় লজ্জা করাট ভাঙিয়া দিলেই লজ্জার কারণটাকে খেদানো হয় ; শচীশের মন হইতে আমি লজ্জার বাস। ভাঙিয়া দিতেছি । \C) লেখাপড়-শেখ সারা হইল । এখন হরিমোহন শচীশকে তার জ্যাঠার হাত হইতে উদ্ধার করিবার জন্য উঠিয়া-পড়িয়া লাগিলেন। কিন্তু বড়শি তখন গলায় বাধিয়াছে, বিধিয়াছে ; তাই এক পক্ষের টান যতই বাড়িল অপর পক্ষের বাধনও ততই অঁাটিল। ইহাতে হরিমোহন ছেলের চেয়ে দাদার উপরে বেশি রাগ করিতে লাগিলেন ; দাদার সম্বন্ধে রঙ-বেরঙের নিন্দায় পাড়া ছাইয়া দিলেন । শুধু যদি মত-বিশ্বাসের কথা হইত হরিমোহন আপত্তি করিতেন না ; মুর্গি খাইয়। লোকসমাজে সেটাকে পাঠা বলিয়া পরিচয় দিলেও তিনি সহ করিতেন। কিন্তু ইহার এত দূর গিয়াছিলেন যে মিথ্যার সাহায্যেও ইহাদিগকে ত্রাণ করিবার উপায় ছিল না। যেটাতে সব চেয়ে বাধিল সেটা বলি : । t * জগমোহনের নাস্তিকধর্মের একটা প্রধান অঙ্গ ছিল লোকের ভালো করা । সেই ভালো-করার মধ্যে অন্য যে-কোনো রস থাকু একটা প্রধান রস এই ছিল যে, নাস্তিকের