পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


| চতুরঙ্গ । ك مراع বাস্– চুকিয়া গেল, চলিয়া আসিলাম । . শচীশের থাওষা নাই, শোওয়া নাই, কখন কোথায় থাকে স্থশ থাকে না । শরীরটা প্রতিদিনই যেন অতি-শান-দেওয়া ছুরির মতো সূক্ষ্ম হইয়া আসিতে লাগিল। দেখিলে মনে হইত আর সহিবে না। তবু আমি তাকে ঘাটাইতে সাহস করিতাম না । কিন্তু দামিনী সহিতে পারিত না । ভগবানের উপরে সে বিষম রাগ করিত— যে র্তাকে ভক্তি করে না তার কাছে তিনি জাদ, আর ভক্তের উপর দিয়াই এমন করিয়া তার শোধ তুলিতে হয় গা ? লীলানন্দস্বামীর উপর রাগ করিয়া দামিনী মাঝে মাঝে সেটা বেশ শক্ত করিয়া জানান দিত, কিন্তু ভগবানের নাগাল পাইবার উপায় ছিল না। তবু শচীশকে সময়মতো নাওয়ানো-খাওয়ানোর চেষ্টা করিতে সে ছাড়িত না । এই খাপছাড়া মানুষটাকে নিয়মে বধিবার জন্য সে যে কতরকম ফিকিরফন্দি করিত তার আর সংখ্যা ছিল না । অনেক দিন শচীশ ইহার স্পষ্ট কোনো প্রতিবাদ করে নাই। একদিন সকালেই নদীপার হইয়া ও পারে বালুচরে সে চলিয়া গেল। সূর্য মাঝ আকাশে উঠিল, তার পরে স্বৰ্য পশ্চিমের দিকে হেলিল, শচীশের দেখা নাই | দামিনী অভূক্ত থাকিয়া অপেক্ষ করিল, শেষে আর থাকিতে পারিল না। খাবারের থাল লইয়া হাটুজল ভাঙিয়া সে ওপারে গিয়া উপস্থিত। s " চারি দিকে ধু ধূ করিতেছে, জনপ্রাণীর চিহ্ন নাই। রৌদ্র যেমন নিষ্ঠুর, বালির ঢেউগুলাও তেমনি । তারা যেন শূন্যতার পাহারাওয়াল, গুড়ি মারিয়া সব বসিয়া আছে । যেখানে কোনো ডাকের কোনো সাড়া, কোনো প্রশ্নের কোনো জবাব নাই, এমন একটা সীমানাহারা ফ্যাকাশে সাদার মাঝখানে দাড়াইয়া দামিনীর বুক দমিয়া গেল । এখানে যেন সব মুছিয়া গিয়া একেবারে গোড়ার সেই শুকনো সাদায় গিয়া পৌছিয়াছে। পায়ের তলায় কেবল পড়িয়া আছে একটা না । তার না আছে শব্দ, না আছে গতি ; তাহাতে না আছে রক্তের লাল, না আছে গাছপালার সবুজ, না আছে আকাশের নীল, না আছে মাটির গেরুয়া । যেন একটা মড়ার মাথার প্রকাও ওষ্ঠহীন হাসি ; যেন দয়াহীন তপ্ত আকাশের কাছে বিপুল একটা শুষ্ক জিহবা মস্ত একটা তৃষ্ণার দরখাস্ত মেলিয়া ধরিয়াছে । 4. কোন দিকে যাইবে ভাবিতেছে এমন সময় হঠাৎ বালির উপরে পায়ের দাগ চোখে পড়িল । সেই দাগ ধরিয়া চলিতে চলিতে যেখানে গিয়া সে পৌছিল সেখানে একট জলা । তার ধারে ধারে ভিজা মাটির উপরে অসংখ্য পাখির পদচিহ্ন। সেইখানে বালির