পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छछूब्रज 8brషి পরের দিন সকালে দামিনীর সে কী চেহারা ! কাল রাত্রে ঝড়ের তাওত পৃথিবীর মধ্যে কেবল যেন এই মেয়েটির উপরেই আপনার সমস্ত পদচিহ্ন রাখিয়া দিয়া গেছে । ইতিহাসটা কিছুই না জানিয়াও শচীশের উপর আমার ভারী রাগ হইতে লাগিল । I দামিনী আমাকে বলিল, ঐবিলাসবাৰু, তুমি আমাকে কলিকাতায় পৌছাইয়া দিবে চলো । এটা যে দামিনীর পক্ষে কতবড়ো কঠিন কথা সে আমি বেশ জানি, কিন্তু আমি তাকে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলাম না । ভারী একটা বেদনার মধ্যেও আমি আরাম পাইলাম। দামিনীর এখান হইতে যাওয়াই ভালো। পাহাড়টার উপর ঠেকিতে ঠেকিতে নৌকাটি যে চুরমার হইয়া গেল। বিদায় লইবার সময় দামিনী শচীশকে প্রণাম করিয়া বলিল, শ্রীচরণে অনেক অপরাধ করিয়াছি, মাপ করিয়ো । শচীশ মাটির দিকে চোখ নামাইয়া বলিল, আমিও অনেক অপরাধ করিয়াছি, সমস্ত মাজিয়া ফেলিয়া ক্ষমা লইব । দামিনীর মধ্যে একটা প্রলয়ের আগুন জলিতেছে, কলিকাতার পথে আসিতে আসিতে তাহ বেশ বুঝিতে পারিলাম। তারই তাপ লাগিয়া আমারও মনটা যেদিন বড়ো বেশি তাতিয়া উঠিয়াছিল সেদিন আমি শচীশকে উদ্দেশ করিয়া কিছু কড়া কথা বলিয়ছিলাম। দামিনী রাগিয়া বলিল, দেখে, তুমি তার সম্বন্ধে আমার সামনে অমন কথা বলিয়ে না। তিনি আমাকে কী বঁাচান বঁাচাইয়াছেন তুমি তার কী জান ? তুমি কেবল আমারই দুঃখের দিকে তাকাও, আমাকে বাচাইতে গিয়া তিনি যে দুঃখটা পাইয়াছেন সে দিকে বুঝি তোমার দৃষ্টি নাই ? স্বন্দরকে মারিতে গিয়াছিল তাই অসুন্দরটা বুকে লাথি থাইয়াছে। বেশ হইয়াছে, বেশ হইয়াছে, খুব ভালো হইয়াছে —বলিয়া দামিনী বুকে দম দম করিয়া কিল মারিতে লাগিল । আমি তার হাত চাপিয়৷ ধরিলাম । কলিকাতায় সন্ধ্যার সময় আসিয়া তখনই দামিনীকে তার মাসির বাড়ি দিয়া আমি আমার এক পরিচিত মেসে উঠিলাম। আমার জানা লোকে যে আমাকে দেখিল চমকিয়৷ উঠিল ; বলিল, এ কী ! তোমার অসুখ করিয়াছে না কি ? পরদিন প্রথম ডাকেই দামিনীর চিঠি পাইলাম, আমাকে লইয়া যাও, এখানে আমার স্থান নাই । i f মাসি দামিনীকে ঘরে রাখিবে না। আমাদের নিন্দায় নাকি শহরে চীটি পড়িয়া