পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शत्रएकोछूक | 4.ه কালিমার সহিত উক্ত কয়লার তুলনা করিয়াছি, তাহারা অনুগ্রহ করিয়া উক্ত খনি আছে কি না এবং কোথায় আছে এবং থাকিলেই বা কী, যদি খোলসা করিয়া সমস্ত আমাকে লিখিয়া পাঠান তবে খনিরহস্য সম্বন্ধে আমার অজ্ঞতা দূর হইয়া যায়। যিনি যাহাই বলুন লুনের ট্যাক্স ‘বিধবাবিবাহ কিম্বা গাওয়া ঘি' সম্বন্ধে যে আমি কিছুই বলি নাই তাহা শপথ করিয়া বলিতে পারি। এ দিকে ঘরেও গোল বাধিয়াছে। গভীর চিন্তাশীলতার পরিচয়স্বরূপ আমি এক জায়গায় লিখিয়াছিলাম, এ জগংটা পশুশালা। আমার ধারণা ছিল যে পাঠকেরা হাসিবে । অন্তত তিন জন পাঠক যে হাসেন নাই তাহার প্রমাণ পাইয়াছি। প্রথমত শু্যালক আসিয়া আমাকে গাল পাড়িল ; সে কহিল, নিশ্চয়ই আমি তাহাকেই পশু বলিয়াছি। আমি কহিলাম, বলিলে অপরাধ হয় না, কিন্তু তোমার দিব্য, বলি নাই । ভ্রাতার অপমানে ব্রাহ্মণী পিতার ঘরে যাইবেন বলিয়া শাসাইতেছেন । জমিদার পশুপতিবাবু থাকিয়া থাকিয়া রাগে তাহার গোফজোড়া বিড়ালের ন্যায় ফুলাইয়৷ তুলিতেছেন। তিনি বলেন তাহাকে শুলক সম্বোধন করিয়া অনধিকারচর্চা করিয়াছি, এবং লোকসমাজে তিনি আমার সম্বন্ধে যে-সকল আলোচনা করিতেছেন তাহা সুশ্রাব্য নয়। এ দিকে পাকড়াশি-বাড়ির জগৎবাবু চা খাইতে থাইতে আমার প্রবন্ধ পড়িয় অট্টহাস্তের সঙ্গে মুখভ্রষ্ট চায়ের ও রুটির কণায় বজ্রবিদ্যুদস্তুষ্টির কৃত্রিম দৃষ্টান্ত রচনা করিতেছিলেন, এমন সময়ে যেমনি পড়িলেন ‘জগংটা পশুশালা অমনি হাস্তের বেগ হঠাৎ থামিয়া গিয়া গলায় চা বাধিয়া গেল— লোকে ভাবিল, ডাক্তার ডাকিবার সবুর সহিবে না । পাড়াস্বদ্ধ লোকের ধারণা যে, আমার প্রবন্ধে আমি তাহদেরই পরমপূজনীয় জ্যাঠা, খুড়শ্বশুর অথবা ভারীজামাই সম্বন্ধে কোনো-না-কোনো সত্য কথার আভাস দিয়াছি ; তাহারাও আমার ক্ষণভঙ্গুর মাথার খুলিটার উপরে লক্ষপাত করিবে এমন কথা প্রকাশ করিতেছে । আমার প্রবন্ধের গভীর অভিপ্রায়টি যে কী তৎসম্বন্ধে আমার কথা তাহারা বিশ্বাস করিতেছে না, কিন্তু আমার প্রতি তাহদের অভিপ্রায় যে কী তৎসম্বন্ধে তাহদের কথা অবিশ্বাস করিবার কোনো হেতু আমার পক্ষে নাই। বস্তুত তাহদের ভাষা উত্তরোত্তর অত্যন্ত স্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে। মনে করিয়াছি বাস। বদলাইতে হইবে, আমার রচনার ভাষাও বদলানো আবশ্যক। আর যাহাই করি লোককে হাসাইবার চেষ্টা করিব না। > २ ॐ २