পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


** রবীন্দ্র-রচনাবলী মনোহর শারদপূর্ণিমা কাহার না আনন্দদায়িনী ! কেবল আমার কষ্ট কেন দ্বিগুণ বাড়াইয়া তোলে ? আমার স্তায় আর-কোনো হতভাগিনী সম্বন্ধে জয়দেব লিখিয়াছেন— নিন্দতি চন্দনমিন্দুকিরণমহুবিন্দতি খেদমধারম্। ব্যালনিলয়মিলনেন গরলমিব কলয়তি মলয়সমীরম্। ار অন্যত্র লিখিয়াছেন ‘নিশি নিশি রুজমুপযাতি’। আমারও সেই দশা। রাত্রেই বাড়িয়া উঠে । আমার এ কী হইল ? উত্তর তোমার বাত হইয়াছে। অতএব পুবে হাওয়া বহিলে যে দ্বার রোধ করিয়া দাও সেটা ভালোই কর। পরীক্ষণস্বরূপে চন্দনপঙ্ক লেপন না করিলেই উত্তম করিতে । পূর্ণিমার সময় যে বেদনা বাড়ে সে তোমার একলার নহে, রোগটার ওই এক লক্ষণ । চাদের সহিত বিরহ বাত পয়ার এবং জোয়ার-ভাটার একটা যোগ আছে। রাধিকার স্তায় রাত্রে তোমার রোগ বৃদ্ধি হয়। কিন্তু রাধিকার সময় ভালো ডাক্তার ছিল না, তোমার সময়ে ডাক্তারের অভাব নাই। অতএব আমার ঠিকানা সম্পাদকের নিকট জানিয়া লইয়া অবিলম্বে চিকিৎসা আরম্ভ করিয়া দিবে। —নৃতন-উত্তীর্ণ ডাক্তার 〉asb" পয়সার লাঞ্ছনা আমাদের আপিসের সাহেব বলে, বাঙালির বেশি বেতনের আবখ্যক নাই । সে স্থির করিয়া রাখিয়াছে, ভদ্র বাঙালির ছেলের পক্ষে মাসিক পচিশ টাকা খুব উচ্চ বেতন । আমাদের অবস্থা এবং আমাদের দেশের সম্বন্ধে সাহেবরা যখন একটা মত স্থির করে তখন তাহার উপর আমাদের কোনো কথা বলা প্ৰগলভতা । কেবল সাহেবের প্রতি একটা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কুটুম্বিতাসূচক বিশেষণ -প্রয়োগপূর্বক মনের ক্ষোভে আপনা-আপনির মধ্যে বলাবলি করি— সাহেব সবই তো জানেন । শোনা যায় জগতে হরণ-পূরণের একটা নিয়ম আছে। সে নিয়মের অর্থ এই— যাহার একটার অভাব তাহার আর-একটার বাহুল্য প্রায়ই থাকে। অাপিসেও তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়। আমাদের যেমন বেতন অল্প তেমনি খাটুনি এবং লাঞ্ছনা অধিক এবং সাহেবের ঠিক তাহার বিপরীত ।