পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় " دهه একজন প্রবীণ বিজ্ঞ ধাৰ্মিক খ্যাতিমান লোক এই কবিতা পড়ে বড়ো লজ্জা পেয়েছিলেন ; বলেছিলেন, এ তে ছেলেমেয়েদের পড়বার যোগ্য কবিতা নয়। এমনি আমার ভাগ্য, আমার খোড়া কলম খানার মধ্যে পড়তেই আছে। যদি বা বৌদ্ধধর্মগ্রন্থ থেকে আমার গল্প আহরণ করে আনলুম, সেটাতেও সাহিত্যের আবরু নষ্ট হল ! নীতিনিপুণের চক্ষে তথ্যটাই বড়ো হয়ে উঠল, সত্যটা ঢাকা পড়ে গেল। হায় রে কবি, একে তো ভিখারিনীর কাছ থেকে দান নেওয়াটাই তথ্য হিসাবে অধৰ্ম, তার পরে নিতান্ত নিতেই যদি হয় তা হলে তার পাতার কুঁড়ের ভাঙা ঝাপটা কিম্বা একমাত্র মাটির হাড়িটা নিলে তো সাহিত্যের স্বাস্থ্যরক্ষণ হতে পারত। তথ্যের দিক থেকে এ কথা নতশিরে মানতেই হবে । এমনকি, আমার মতে কবিও যদি তথ্যের জগতে ভিক্ষা করতে বেরেত তবে কখনোই এমন গৰ্হিত কাজ করত না, এবং তথ্যের জগতে পাগলাগারদের বাইরে এমন ভিক্ষুক মেয়ে কোথাও মিলত না রাস্তার ধারে নিজের গায়ের একখানিমাত্র কাপড় যে ভিক্ষা দিত। কিন্তু সত্যের জগতে স্বয়ং ভগবান বুদ্ধের প্রধান শিষ্য এমন ভিক্ষা নিয়েছেন এবং ভিখারিনী এমন অদ্ভূত ভিক্ষা দিয়েছে ; এবং তার পরে সে মেয়ে যে কেমন করে রাস্তা দিয়ে ঘরে ফিরে যাবে সে তর্ক সেই সত্যের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তথ্যের এতবড়ো অপলাপ ঘটে ও সত্যের কিছুমাত্র খর্বত হয় না– সাহিত্যের ক্ষেত্রটা এমনি । রসবস্তুর এবং তথ্যবস্তুর এক ধর্ম এবং এক মূল্য নয় । তথ্যজগতের যে আলোকরশ্মি দেয়ালে এসে ঠেকে যায় রসজগতে সে রশ্মি স্থূলকে ভেদ করে অনায়াসে পার হয়ে যায়, তাকে মিস্ত্রি ডাকতে বা সিদ্ধ কাটতে হয় না। রসজগতে ভিখারির জীর্ণ চারখানা থেকেও নেই, তার মূল্যও তেমনি লক্ষপতির সমস্ত ঐশ্বর্ষের চেয়ে বড়ো । —সাহিত্যের পথে কল্পনা কল্পনা ১৩০৭ সালের বৈশাখ মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর নিকট কল্পনার অনেকগুলি কবিতার পাণ্ডুলিপি দৃষ্ট হইয়াছে। 'চৌরপঞ্চাশিকা পিয়াসী’ ও ‘প্রকাশ কবিতার পাঠান্তর উক্ত পাণ্ডুলিপি হইতে নিয়ে সংকলিত হইল । ജബ്, চৌরপঞ্চশিক্ষা বহু বর্ষ হতে তব বিপুল প্রণয় বেদনাবিহীন !