পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


લહાના * রবীন্দ্র-রচনাবলী 'বর্ষশেষ’ কবিতা সম্বন্ধে কবি অন্যত্র বলিয়াছেন— ১৩০৫ সালে বর্ষশেষ ও দিনশেষের মুহূর্তে একটা প্রকাণ্ড ঝড় দেখেছি । এই ঝড়ে আমার কাছে রুত্রের আহবান এসেছিল। যা-কিছু পুরাতন ও জীর্ণ তার আসক্তি ত্যাগ করতে হবে— বড় এসে শুকনে পাতা উড়িয়ে দিয়ে সেই ডাক দিয়ে গেল। এমনিভাবে চিরনবীন যিনি তিনি প্রলয়কে পাঠিয়েছিলেন মোহের আবরণ উড়িয়ে দেবীর জন্তে । তিনি জীর্ণতার আড়াল সরিয়ে দিয়ে আপনাকে প্রকাশ করলেন। ঝড় থামল। বললুম, অভ্যস্ত কর্ম নিয়ে এই যে এতদিন কাটালুম, এতে তো চিত্ত প্রসন্ন হল না। যে আশ্রয় জীর্ণ হয়ে যায় তাকেও নিজের হাতে ভাঙতে মমতায় বাধা দেয় । ঝড় এসে আমার মনের ভিতরে তার ভিংকে নাড়া দিয়ে গেল ; আমি বুঝলুম, বেরিয়ে আসতে হবে । —শান্তিনিকেতন পত্র বৈশাখী কবিতা সম্বন্ধে অধ্যাপক চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ লিথিয়াছিলেন— এক জাতের কবিতা আছে যা লেখা হয় বাইরের দরজা বন্ধ করে। সেগুলো হয়তে অতীতের স্মৃতি বা অনাগতের প্রত্যাশা, বাসনার অতৃপ্তি বা আকাঙ্ক্ষার আবেগ, কিম্ব রূপরচনার আগ্রহের উপর প্রতিষ্ঠিত। আবার এক জাতের কবিতা আছে য মুক্তদ্বার অস্তরের সামগ্ৰী, বাইরের সমস্ত-কিছুকে আপনার সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে। তুমি আমার বৈশাখ’ কবিতা সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছ । বলা বাহুল্য এটা শেষ-জাতীয় কবিতা । এর সঙ্গে জড়িত আছে রচনাকালের সমস্ত-কিছু।. ‘বৈশাখ’ কবিতার মধ্যে মিশিয়ে আছে শাস্তিনিকেতনের রুদ্রমধ্যাহ্নের দীপ্তি। যেদিন লিখেছিলুম সেদিন চারি দিক থেকে বৈশাখের যে তপ্তরূপ আমার মনকে আবিষ্ট করেছিল সেইটেই ওই কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে। সেই দিনটিকে যদি ভূমিকারূপে ওই কবিতার সঙ্গে তোমাদের চোখের সামনে ধরতে পারতুম তা হলে কোনো প্রশ্ন তোমাদের মনে উঠত না। তোমার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে নীচের ফুটি লাইন নিয়ে— ছায়ামূর্তি যত অম্লচর দখতাম্র দিগন্তের কোন ছিত্র হতে ছুটে আসে ! খোলা জানালায় বসে ওই ছায়ামূর্তি অনুচরদের স্বচক্ষে দেখেছি শুষ্ক রিক্ত দিগন্তপ্রসারিত মাঠের উপর দিয়ে প্রেতের মতে ছ হু করে ছুটে আসছে ঘূর্ণামৃত্যে, ধুলোবালি শুকনো পাতা উড়িয়ে দিয়ে। পরবর্তী শ্লোকেই ভৈরবের অনুচর এই প্রেতগুলোর ব