বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রাজকাহিনী

ফল পাকতে আরম্ভ হল, দুটি একটি ফুল ফুটতে লাগল, তখন ক্রমে দু একটি ছোট পাখী, গুটিকতক রঙিন প্রজাপতি, সেই সঙ্গে একপাল ছোট-বড় ছেলেমেয়ে দেখা দিলে। প্রজাপতি শুধু একটুখানি ফুলের মধু খেয়ে সন্তুষ্ট ছিল, পাখী শুধু দু-একটা পাকা ফল ঠোকরাত মাত্র, কিন্তু সেই ছেলের পাল ফুল ছিড়ে, ফল পেড়ে, ডাল ভেঙে চুরমার করত। সুভাগা কিন্তু কাকেও কিছু বলতেন না, হাসি-মুখে সকল উৎপাত সহ্য করতেন। এ গাছের তলায় সবুজ ঘাসে নানা রঙের কাপড় পরে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে খেলে বেড়াত, দেখতে দেখতে সুভাগীর দিনগুলো আনমনে কেটে যেত। ক্রমে বর্ষা এসে পড়ল; চারিদিকে কালো মেঘের ঘটা, বিদ্যুতের ছটা, আর গুরুগুরু গর্জ্জন! সেই সময় একদিন ক্ষুরের মত পূবের হাওয়া, সুভাগার নূতন বাগানে ফুলের বোঁটা কেটে, গাছের পাতা ঝরিয়ে, তার সাধের মালঞ্চ শূন্য প্রায় করে শন্‌শন্-শব্দে চলে গেল।পাখীর ঝাঁক হাওয়ার মুখে উড়ে গেল, প্রজাপতির ভাঙা ডানা ফুলের পাপড়ির মত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, ছেলের পাল কোথায় অদৃশ্য হল। সুভাগা তখন সেই ধারা-