বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১০১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৯১

নির্ভয়ে এসে বস্‌ল। ওমরাহ আশ্চর্য্য হয়ে বলে উঠলেন,—“কি আশ্চর্য্য সাহস! তোতার বিপদ দেখে তুতী এসে আপনিই ধরা দিয়েছে।” আলাউদ্দীন তখন পদ্মিনীর কথা ভাবতে ভাবতে চলেছিলেন; হঠাৎ ওমরাহের মুখে এই কথা শুনে তাঁর মনে হল,—যদি ভীমসিংহকে ধরা যায়, তবে হয় তো সেই সঙ্গে রাণী পদ্মিনীও ধরা দিতে পারেন।

 বাদশা শিবিরে এসে সমস্ত রাত্রি ভীমসিংহকে বন্দী করবার ফন্দি আঁটতে লাগলেন। দু এক দিন পরেই রাণার সঙ্গে কথাবার্ত্তা স্থির হল যে, আল্লাউদ্দীন সমস্ত পাঠান-সৈন্য নিয়ে বিনা যুদ্ধে দিল্লীতে ফিরে যাবেন, তার বদলে একা মাত্র তিনি একখানি আয়নার ভিতরে রাজপুত-রাণী পদ্মিনীকে একবার দেখতে পাবেন, আর চিতোরের কেল্লার ভিতর বাদশা যতক্ষণ একা থাকবেন ততক্ষণ তাঁর কোনো বিপদ না ঘটে সে জন্য স্বয়ং মহারাণা দায়ী রইলেন। বাদশা চিতোরে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে লাগলেন। শিকার যে এত শীঘ্র ফাঁদে পা দেবে আল্লাউদ্দীন স্বপ্নেও ভাবেন নাই। তিনি মহা আনন্দে পাঠান ওমরাহদের নিয়ে সমস্ত পরামর্শ স্থির কল্লেন। তার পর বৈকালে গোলাপ-জলে স্নান