করে, কিংখাবের জামাজোড়া, মোতীর কণ্ঠমালা, হীরেপান্নার শিরপেঁচ পরে, শাহেনশা সাদা ঘোড়ার উপর সোনার রেকাবে পা দিয়ে বসলেন;— সঙ্গে প্রায় দুশোজন পাঠান বীর;—যারা প্রাণের ভয় রাখে না, যুদ্ধই যাদের ব্যবসা! বাদশা ঘোড়ায় চড়ে একা পাহাড় ভেঙে কেল্লার দিকে উঠে গেলেন; আর সেই পাঠান সওয়ারেরা পাহাড়ের নীচে থেকে প্রথমে নিজের শিবিরে ফিরে গেল, তারপর আবার একে একে সন্ধ্যার অন্ধকারে কেল্লার কাছে ফিরে এসে পথের ধারে প্রকাণ্ড একটা আমবাগানের তলায় লুকিয়ে রইল।
সূর্য্যদেব যখন চিতোরের পশ্চিম দিকে প্রকাণ্ড একখানা মেঘের আড়ালে অস্ত গেলেন, সেই সময় পাঠান-বাদশা আল্লাউদ্দীন রাণা ভীমসিংহের হাত ধরে পদ্মিনীর মহলে শ্বেতপাথরের রাজদরবারে উপস্থিত হলেন। সেখানে আর জনমানব ছিল না,—কেবল হাজার হাজার মোমবাতির আলো, সেই শ্বেতপাথরের রাজমন্দিরে, যেন আর একটা নূতন দিনের সৃষ্টি করেছিল। রাণা ভীম সেই ঘরে সোনার মছনদে বাদশাকে বসিয়ে তাঁর হাতে এক পেয়ালা সরবৎ দিয়ে বল্লেন,—“শাহেনশা, একটু আমিল ইচ্ছা করুন।”