আল্লাউদ্দীন সেই আমিলের পেয়ালা হাতে ভাবতে লাগলেন,—যদি এতে বিষ থাকে তবে তো সর্ব্বনাশ! রাজপুতের মেয়েরা, শুনেছি, শত্রুর হাতে অপমান হবার ভয়ে অনেক সময় এই রকম আমিল খেয়ে প্রাণ দিয়েছে। বাদশা পেয়ালা—হাতে ইতস্তত করতে লাগলেন। রাণা ভীম আল্লাউদ্দীনের মনের ভাব বুঝে একটু হেসে বল্লেন,—“শাহেনশা, বিষের ভয় করবেন না। মহারাণা স্বয়ং যখন আপনার কোনো বিপদ না ঘটে সে জন্য দায়ী, তখন আজ যদি আপনি সমস্ত চিতোর একা ঘুরে আসেন, তবু একজনও রাজপুত আপনার গায়ে হাত তুলতে সাহস পাবে না। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। অতিথিকে আমরা দেবতার মত মনে করি।” আল্লাউদ্দীন তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন,—“রাণা, আমি সে কথা ভাবছিনে। আমি ভাবছিলেম, আজ যেমন নির্ভয়ে আমি তোমার উপর বিশ্বাস করছি, তেমনি তুমিও আমাকে বিশ্বাস করতে পার কি না?” আল্লাউদ্দীন মুখে এই কথা বল্লেন বটে, কিন্তু সেই আমিলের পেয়ালায় চুমুক দিতে তাঁর প্রাণ কাঁপতে লাগল। তিনি অল্পে অল্পে সমস্ত আমিলটুকু নিঃশেষ করে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন। শেষে যখন
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১০৩
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৯৩