যায়! ভীমসিংহ বলে উঠলেন,—“শাহেনশা, পদ্মিনীকে স্পর্শ করবেন না।” রাণার মনে হল, রাজদরবারে একদিকে বসে সত্যই তাঁর পুণ্যবতী রাণী পদ্মিনী যেন পাঠানের হাতে অপমান হবার ভয়ে কাঁপছেন। রাগে রাণার দুই চক্ষু রক্তবর্ণ হয়ে উঠল, তিনি সেই ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে উঠে সোনার একটা পেয়ালা সেই আয়নাখানার ঠিক মাঝখানে সজোরে ছুঁড়ে মারলেন;—ঝন্-ঝন্ শব্দে সাত হাত উঁচু চমৎকার সেই আয়না চুরমার হয়ে ভেঙে পড়ল। আল্লাউদ্দীন চমকে উঠে তিন পা পিছিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি মনে মনে বুঝলেন, পাগলের মত রাণীর দিকে ছুটে যাওয়াটা বড়ই অভদ্রতা হয়েছে, এজন্য রাণার কাছে ক্ষমা চাওয়া দরকার। বাদশা ভীমসিংহের দিকে ফিরে বল্লেন,—“রাণা, আমার অন্যায় হয়েছে, আমার মহলে এসে যদি কেউ এমন অভদ্রতা করত, তাহলে হয়তো আমি তার মাথা কেটে ফেল্তে হুকুম দিতুম,—আমায় ক্ষমা করুন।” তারপর, অনেক তোষামোদ, অনেক অনুনয়বিনয়ে রাণাকে সন্তুষ্ট করে গভীর রাত্রে আল্লাউদ্দীন ভীমসিংহের কাছে বিদায় চাইলেন। পেয়ালার পর পেয়ালা আমিল খেয়ে একেই রাণার প্রাণ খুলে গিয়েছিল; তার উপর, দিল্লীর
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১০৫
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৯৫