বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৯৭

দুই ধারে সারি-বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। আর কোথাও কোনো শব্দ নেই, কেবল কেল্লার উপর থেকে এক একবার প্রহরীদের হৈ-হৈ আর পাথরের রাস্তায় সেই বাইশটা ঘোড়ার খুরের খটাখট।

 আল্লাউদ্দীন ভীমসিংকে নিয়ে কথায় কথায় ক্রমে পাহাড়ের নীচে এলেন। সেখানে একদিকে জনারের ক্ষেত, আর-একদিকে আমবাগান, মাঝে মেঠো রাস্তা। এই রাস্তার দুই ধারে প্রায় দুশো পাঠান আল্লাউদ্দীনের হুকুম মত লুকিয়ে ছিল। ভীমসিংহ যেমন এইখানে এলেন, অমনি হঠাৎ চারিদিক থেকে পাঠান-সৈন্য তাঁকে ঘিরে ফেল্লে; তারপর সেই অন্ধকার রাত্রে শত শত শত্রুর মাঝে কুড়িজনমাত্র রাজপুত তাদের রাণাকে উদ্ধার করবার জন্য প্রাণপণে যুঝ্‌তে লাগল। কিন্তু বৃথা! বাজপাখী যেমন ছোঁ-মেরে শিকার নিয়ে যায়, তেমনি পাঠান আল্লাউদ্দীন, রাজপুতদের মাঝখান থেকে, রাণা ভীমকে বন্দী করে নিয়ে গেলেন। কুড়িজনের মধ্যে পাঁচজনমাত্র রাজপুত চিতোরে ফিরল! প্রতিপদের সকালবেলায় সমস্ত চিতোরে রাষ্ট্র হল,—ভীমসিংহ বন্দী হয়েছেন। পদ্মিনীকে না দিলে তাঁর মুক্তি নেই।