আল্লাউদ্দীন যখন শিবিরে পৌঁছিলেন, তখন রাত্রি আড়াই প্রহর। তিনি ভীমসিংহকে সাবধানে বন্ধ রাখতে হুকুম দিয়ে নিজের কানাতে বিশ্রাম করতে গেলেন। আজ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস হল যে, রাণা যখন ধরা পড়েছেন, পদ্মিনী আর কোথায় যায়! হিন্দুর তখন মেয়ে স্বামীর জন্য প্রাণ দিতে পারে, বাদশার বেগম হতে কি রাজি হবে না? পদ্মিনীকে না পেলে রাণাকে কিছুতেই ছাড়া হবে না! আলাউদ্দীন মনে মনে এই প্রতিজ্ঞা করে সোনার খাটিয়ায় দুধের ফেনার মত ধপ্ধপে বিছানায় শুয়ে হিন্দুরাণী পদ্মিনীর কথা ভাবতে ভাবতে শেষরাত্রে ঘুমিয়ে পড়লেন।
সকাল হলে বাদশা মনে ভাবলেন, এইবার পদ্মিনী আসছেন। সকাল গিয়ে দুপুর কেটে সন্ধ্যা হল, পদ্মিনী এলেন না। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত চলে গেল, তবু পদ্মিনীর দেখা নেই। বাদশা অস্থির হয়ে উঠলেন! তাঁর মনে হতে লাগল,― এ ভীমসিং কি আসল ভীমসিংহ নয়? আমি কি ভুল করে সামান্য কোনো সর্দ্দারকে বন্দী করে এনেছি? আল্লাউদ্দীন বন্দী রাণাকে হুজুরে হাজির করতে হুকুম দিলেন। লোহার শিকলে বাঁধা রাণা ভীম; বাঁধা সিংহের মত, বাদশার