বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১০৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পদ্মিনী
৯৯

দরবারে উপস্থিত হলেন। শাহেনশা জিজ্ঞাসা কল্লেন, —“তুমিই কি পদ্মিনীর ভীমসিংহ?” রাণা উত্তর কল্লেন,—“পাঠান! এতে তোমার সন্দেহ হচ্চে কেন?” আল্লাউদ্দীন বল্লেন,—“যদি তুমি সত্যই ভীমসিংহ, তবে তোমাকে উদ্ধার করবার জন্য রাজপুতদের কোনোই চেষ্টা দেখছি না যে?” রাণা বল্লেন,—“যে মূর্খ নিজের বুদ্ধির দোষে মিথ্যাবাদী পাঠানের হাতে বন্দী হয়েছে, তার সঙ্গে চিতোরের মহারাণা, বোধ হয়, আর কোনো সম্বন্ধ রাখতে চান না!” কথাটা শুনে বাদশার মনে খটকা লাগল,—যদি সত্যই ভীমসিংহকে পাঠানের হাতে ছেড়ে দিয়ে মহারাণা নিশ্চিন্ত থাকেন! আল্লাউদ্দীন মহা ভাবিত হয়ে দরবার ছেড়ে উঠে গেলেন।

 সেই দিন শেষরাত্রে চিতোরের উপরে কেল্লার খোলা ছাদে পদ্মিনী গালে হাত দিয়ে একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। নীল পদ্মের মত তাঁর দুটি সুন্দর চোখ, পাঠান-শিবিরের দিকে—যেখানে ভীমসিং বন্দী ছিলেন সেই দিকে চেয়ে ছিল। আকাশ তখনও পরিষ্কার হয় নি, পূর্ব্বদিকে সূর্য্যের আলো সোনার তারের মত দেখা দিয়েছে মাত্র, এমন সময় দুজন রাজপুত-সর্দ্দার