শ্রাবণে একা বসে বসে বাপমায়ের কথা, শ্বশুরশাশুড়ীর নিষ্ঠুরতা, আর বিয়ের রাত্রে সুন্দর বরের হাসিমুখের কথা মনে করে কাঁদতে লাগলেন; আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন—“হায়, এই নির্জ্জনে সঙ্গীহীন বিদেশে কেমন করে সারাজীবন একা কাটাব!” হরিণের চোখের মত সুভাগার কালো কালো দুটি বড় বড় চোখ অশ্রুজলে ভরে উঠল। তিনি পূবে দেখলেন অন্ধকার, পশ্চিমে অন্ধকার, উত্তরে দক্ষিণে চারিদিকে অন্ধকার; মনে পড়ল এমনি অন্ধকারে এক দিন তিনি সেই মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আজও সেদিনের মত অন্ধকার—সেই বাদলার হাওয়া, সেই নিঃশব্দ প্রকাণ্ড সূর্য্যমন্দির; কিন্তু হায়, কোথায় আজ সেই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ, যিনি সেই দুর্দ্দিনে অনাথিনী অভাগিনী সুভাগাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন! সুভাগার কালো চোখথেকে দুটি ফোঁটা জল দুই বিন্দু বৃষ্টির মত অন্ধকারে ঝড়ে পড়ল! সুভাগা মন্দিরের সমস্ত দুয়ার বন্ধ করে প্রদীপ জ্বালিয়ে ঠাকুরের আরতি করলেন; তারপর কি জানি কি মনে করে, সুভাগা সেই সূর্য্যমূর্তির সম্মুখে ধ্যানে বসলেন। ক্রমে সুভাগার দুটি চক্ষু স্থির হয়ে এল, চারিদিক থেকে ঝড়ের ঝন্ঝনা,
পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১১
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
শিলাদিত্য
৭