বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০০
রাজকাহিনী

পদ্মিনীর পায়ে এসে প্রণাম কল্লেন। একজনের নাম গোরা, আর-একজনের নাম বাদল।গোরার বয়স পঞ্চাশের উপর, আর তার বড় ভায়ের ছেলে বাদলের বয়স বছর বারো। গোরা, বাদল দুইজনেই পদ্মিনীর বাপের বাড়ির লোক। রাজকুমারী পদ্মিনী যখন ভীমসিংহের রাণী হয়ে সিংহল ছেড়ে চলে আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে এই গোরা এক-হাতে তলোয়ার, আর–হাতে মা-বাপ-হারা কচি বাদলকে নিয়ে দেশ ছেড়ে চিতোরে এসেছিলেন। পদ্মিনী জিজ্ঞাসা কল্লেন,—“মহারাণা কি আমার কথা-মত কাজ করতে রাজি হয়েছেন?” গোরা বল্লেন,—“তাঁরি হুকুমে রাণীজিকে পাঠান-শিবিরে পাঠাবার বন্দোবস্ত করার জন্য এখনি বাদশার সঙ্গে দেখা করতে চলেছি।” পদ্মিনী একটু হেসে বল্লেন,—“যাও, বাদশাকে বোলো, আমার জন্য দিল্লীতে একটা নূতন মহল বানিয়ে রাখেন।”

 গোরা, বাদল বিদায় নিলেন। দেখতে দেখতে সমস্ত পৃথিবী প্রকাশ করে সূর্য্যদেব উদয় হলেন। পদ্মিনী দেখলেন, আল্লাউদ্দীনের লাল রেশমের প্রকাণ্ড শিবির সকালবেলার সূর্য্যের আলোয় ক্রমে ক্রমে রক্তময় হয়ে উঠল! তিনি সেই বাদশাহের কানাতের