দিকে চেয়ে চেয়ে বলে উঠলেন,—“ধূর্ত্ত পাঠান, তোতে আমাতে আজ যুদ্ধ আরম্ভ হল। দেখি, কার কতদূর ক্ষমতা!”
সেদিন শুক্রবার, মুসলমানদের জুম্মা। আল্লাউদ্দীন ফজরের নামাজ শেষ করে দরবারে বসেছেন, এমন সময় মহারাণার চিঠি নিয়ে গোরা, বাদল উপস্থিত হলেন। বাদশা মহা আনন্দে মহারাণার মোহর-করা চিঠি হাতে নিয়ে পড়তে লাগলেন। তাতে লেখা রয়েছে,—“পদ্মিনীকে বাদশার হাতে দেওয়াই স্থির হল, তার বদলে রাণা ভীমসিংহের মুক্তি চাই! আরও, রাজরাণী পদ্মিনী সামান্য স্ত্রীলোকের মত দিল্লীতে যেতে পারেন না, তাঁর প্রিয় সখীরাও যাতে পদ্মিনীর সঙ্গে থেকে চিরদিন তাঁর সেবা করতে পারেন, বাদশাহ যেন সে বন্দোবস্ত করেন; তাছাড়া চিতোরের রাণী পদ্মিনীকে শাহেন্শার শিবিরে পৌঁছে দেবার জন্য যে সব বড় বড় ঘরের রাজপুতনী সঙ্গে যাবেন, তাঁদের যাতে কোনো অসম্মান না হয়, সেজন্য বাদশা তাঁর সমস্ত সৈন্য কেল্লার সামনে থেকে কিছু দূরে সরিয়ে রাখবেন। শেষে, মহারাণার এই ইচ্ছে যে, এর পর থেকে আল্লাউদ্দীন আর যেন তাঁর সঙ্গে শত্রুতা না করেন।”