চিঠিখানা পড়ে বাদশার মন আনন্দে নৃত্য করতে লাগল;—তিনি হাসিমুখে গোরা ও বাদলের দিকে ফিরে বল্লেন,—“বেশ কথা! আমি আজ রাত্রের মধ্যেই সমস্ত ফৌজ কেল্লার সামনে থেকে উঠিয়ে নেব, রাণীর আসবার কোনোই বাধা হবে না। তোমরা মহারাণাকে জানাওগে তাঁর সকল কথাতেই আমি রাজি হলেম।”
গোরা, বাদল বিদায় হলেন। বাদশা, কেল্লার সামনে থেকে সমস্ত সৈন্য উঠিয়ে নিতে হুকুম দিলেন। একদিনের মধ্যে এত সৈন্য অন্য জায়গায় উঠিয়ে নেওয়া সহজ নয়! বাদশা বল্লেন,—“তাম্বুকানাত, গোলাগুলি, অস্ত্রশস্ত্র, আসবাবপত্র যেখানকার সেইখানেই থাক, কেবল সেপাইরা নিজের ঘোড়া নিয়ে একদিনের মত অন্য কোথাও আশ্রয় নিক্।” তাতেও প্রায় সমস্ত রাত কেটে গেল!
পরদিন, সূর্য্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চিতোরের প্রধান ফটক রামপোলের উপর কড়কড়-শব্দে নাকড়া বাজতে লাগল। বাদশা দেখলেন, চিতোরের সাতটা ফটক একে একে পার হয়ে, চার চার বেহারার কাঁধে, প্রায় সাতশ’ ডুলি তাঁর শিবিরের দিকে আসছে;—মাঝে রাণী পদ্মিনীর চিনাপোত-মোড়া সোনার চতুর্দ্দোল,