বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাজকাহিনী - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৪).pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৪
রাজকাহিনী

গেলেন। বাদশা জিজ্ঞাসা কল্লেন,—“ভীমসিং কোথায়?” উত্তর হল—“অন্দরে আছেন।”

 আল্লাউদ্দীন শিবিরের এক কোণে বালির ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখলেন, আধ-ঘণ্টা হয়ে গেছে। এইবার পদ্মিনীর সঙ্গে দেখা হবে। বাদশা সাজগোজ করবার জন্য, অন্য এক শিবিরে উঠে গেলেন। সেখানে আতরগোলাপ, হীরেজহরতের ছড়াছড়ি!— কোথাও সোনার আতরদানে হাজার টাকা ভরি গোলাপী আতর, কোথাও মুক্তোর তাজ, পান্নার শিরপেঁচ, কৌটোভরা মাণিকের আংটি, আলনায় সাজানো কিংখাপের জামাজোড়া, রেশমী রূমাল, জরীর লপেটা!

 বাদশা যতক্ষণ কিংখাপের জামাজোড়া, জরীর লপেটা পোরে আয়নার সম্মুখে বসে পাকা দাড়িতে গোলাপী আতর লাগাচ্ছিলেন, ততক্ষণ সেই সাতশ’ পাল্কির একখানিতে রাণা ভীমসিংহকে লুকিয়ে মেবারের বাছা-বাছা রাজপুত-সর্দ্দারেরা পাঠান-শিবিরের মাঝখান দিয়ে চিতোরের মুখে এগিয়ে চলেছিলেন। ক্রমে আল্লাউদ্দীনের সাজগোজ সাঙ্গ হল। আধ-ঘণ্টা শেষ হয়ে এক-ঘণ্টা পূর্ণ হতে চল্লো, এখনও পদ্মিনীর শিবির থেকে ভীমসিং ফিরে এলেন